View AllEarnings

১৩ ফেব, ২০১৮

গুগল ব্লগার ব্লগের জন্য ব্লগার ডেভেলপমেন্ট টিম প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার্স আপডেট উপহার দিচ্ছে। তন্মমধ্যে কাস্টম ডোমেন এ HTTPS সাপোর্ট অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার্স। বিগত ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে গুগল শুধুমাত্র ব্লগস্পট ডোমেন ব্যবহারকারীদের জন্য HTTPS সুবিধা চালু করেছিল। এ ক্ষেত্রে যারা কাস্টম ডোমেন ব্যবহার করছিলেন তারা এই সুবিধাটি নিতে পারছিলেন না। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে কাস্টম ডোমেনের জন্য HTTPS সুবিধাটি লাউঞ্চ করে। তবে গুগল এখনো অফিসিয়ালভাবে এ বিষয়ে কোন ঘোষনা দেয়নি বিধায় পোস্টটি আমাদের ব্লগে শেয়ার করতে বিলম্ব হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম গুগল অফিসিয়ালি ঘোষনা দেওয়ার পর এ সংক্রান্তে একটি পোস্ট করব।
কিভাবে ব্লগার Custom Domain এ HTTPS Enable করবেন?
যেহেতু HTTPS চালু হওয়ার প্রায় ০৩ মাস অতিবিবাহিত হয়েগেছে সেহেতু ইতোপূর্বে Custom Domain ব্যবহারকারী তাদের ব্লগের এ সার্ভিসটি চালু করে নিয়েছেন। যারা এ সার্ভিসটি চালু করতে পেরেছেন তাদেরকে আমরা স্বগত জানাচ্ছি। যারা এখনো চালু করেননি তারা আমাদের এই পোস্ট পড়ে পূর্ণাঙ্গভাবে তাদের ব্লগের জন্য HTTPS চালু করতে পারবেন। সেই সাথে উভয়ে আমাদের আজকের পোস্ট থেকে HTTPS এর অনেক সুবিধা ও অসুবিধা সহ এসইও সংক্রান্তে HTTPS এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, HTTPS বিষয়ে আপনার কোন ধারনা না থাকলে আমাদের পূর্বের পোস্ট থেকে জেনে নিতে পারবেন।

HTTPS এর সুবিধা কি?

যেকোন ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর রাখা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সে জন্য ব্লগের HTTPS চালু থাকলে সার্চ ইঞ্জিন সহ ভিজিটরদের নিকট থেকে বাড়তী কিছু সুবিধা নেওয়া যাবে। নিম্নে আমরা পয়েন্ট আকারে HTTPS বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তুলে ধরলাম।
  • সার্চ র‌্যাংকিং বৃদ্ধিঃ গুগল মামা হচ্ছে মহা জ্ঞানী এবং সর্ব জান্তা। সে সকল বিষয়ে পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে জ্ঞান রাখে এবং সেই অনুপাতে সবকিছু মূল্যায়ন করে সার্চ র‌্যাংকিং নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে যেহেতু HTTPS হচ্ছে Secure সার্ভিস সেহেতু সার্চ র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে গুগল এ ধরনের ব্লগকে গুরুত্ব দেবে। তাছাড়া সার্চ ইঞ্জিন পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, গুগল সার্চ রেজাল্টের ১ম পাতায় HTTPS ব্যবহারকারীদের ব্লগ/ওয়েবসাইট অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থান পেয়ে যায়।
  • ভিজিটরদের নিরাপত্তাঃ HTTPS ব্যবহার করার ফলে আপনার ব্লগের ভিজিটরদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিরাপদ সার্টিফিকেট দিতে পারবেন। কারণ HTTPS ব্যবহার করার ফলে কেউ আপনার ভিজিটরের তথ্য চুরি করতে পারবে না বা অপব্যবহার করতে সক্ষম হবে না।
  • ট্রাফিক বৃদ্ধিঃ যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন এবং ভিজিটর উভয়ে HTTPS ব্লগকে গুরুত্ব দেবে সেহেতু সার্চ ইঞ্জিন হতে অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ভিজিটরদের নিকট হতে পেজ ভিউ বৃদ্ধি হবে।
  • প্রফেশনাল Look: সাধারণত HTTPS ব্লগের এড্রেস এর প্রথমে ব্রাউজারগুলি সবুজ রংয়ের Secure কানেকশন এর আইকন শো করে বিধায় দেখতে অনেকটা আকর্ষণীয় মনেহয়। এ ক্ষেত্রে সর্ব মহলে আপনার ব্লগের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
  • পেজ স্পীড বৃদ্ধিঃ অভীজ্ঞ ওয়েবমাস্টারদের অনেকে বলে থাকেন যে, HTTPS চালু করার ফেলে ব্লগ/ওয়েবসাইট এর গতি বৃদ্ধি পায়। তবে আমি এ বিষয়টির সত্যতা খুঁজে পাইনি। আপনাদের কেউ এটার সত্যতা খুঁজে পেলে অবশ্যই আমাকে কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।

HTTPS এর অসুবিধা কি?

পৃথিবীর প্রত্যেকটি কাজের এ্যাকশন ও রিএ্যাকশন রয়েছে। একইভাবে HTTPS এর ক্ষেত্রেও সাময়িক সময়ের জন্য অল্প কিছু অসুবিধা রয়েছে। আপনি এই সমস্যাগুলি সমাধান করে সকল অসুবিধা দূর করতঃ HTTPS সুবিধা ভোগ করে যেতে পারবেন।
  • সর্ব প্রথম সমস্যা হচ্ছে আপনার ব্লগ পুরাতন হয়ে থাকলে Mixed Content এর সমস্যায় পড়বেন। তবে ২০১৫ সালের পরের ব্লগ হলে এই সমস্যা হবে না।
  • গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস এ পুনরায় সাবমিট করার পর পোস্ট ইনডেক্স না হওয়া পর্যন্ত ব্লগের ট্রাফিক অনেকটা কমে যেতে পারে।
  • নতুন পোস্ট বিবেচনা করে গুগল পুরাতন পোস্ট ইনডেক্স করতে অনেক লম্বা সময় নিতে পারে।
  • সোসিয়াল মিডিয়ার লাইক ও শেয়ার এর কাউন্ট নতুন করে শুরু করবে বিধায় পুরাতন লাইক ও শেয়ার ড্রপ হয়ে যাবে।
  • গুগল AdSense এর বিজ্ঞাপন ঠিকমত শো না হতে পারে।

HTTPS এবং HTTP এর পার্থক্য কি?

সাধারণ দৃষ্টি HTTPS এবং HTTP এর মধ্যে কোন পার্থক্য অনুধাবন করা যায় না। তবে বিষয়টির একটু গভীরে গেলে এর ব্যাহ্যিক ও অভ্যান্তরিন পার্থক্য বুঝা যায়। নিচে আমরা এই দু’য়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে তুলে ধরলাম।
  • HTTPS হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ নিরাপদ অন্যদিকে HTTP নিরপাদ নয়!
  • গুগল সার্চ ইঞ্জিন কিছু অতিরিক্ত সুবিধা দেয়, যা HTTP কে দেওয়া হয় না।
  • HTTPS ব্রাউজারে সবুজ প্রতিক থাকে অন্যদিকে HTTP এ Info প্রতিক থাকে।
  • Hyper Text Transfer Protocol Secure অন্যদিকে Hyper Text Transfer Protocol (HTTP)
  • HTTPS সব ক্ষেত্রে ফ্রি পাওয়া যায় না তবে HTTP সবসময়ই ফ্রি হয়ে থাকে।

কিভাবে ব্লগার Custom Domain এ HTTPS Enable করবেন?

আপনি এখনো গুগল ব্লগস্পট এর ফ্রি ডোমেন ব্যবহার করে থাকলে আমাদের পূর্বের পোস্টটি দেখে নিবেন। সেখান থেকে আপনার ফ্রি ডোমেনটির HTTPS চালু করতে পারবেন। তবে আপনি Custom Domain ব্যবহার করে থাকলে আমাদের এই ধাপটি অনুসরণ করতে থাকুন।
  • প্রথমে ব্লগে লগইন করুন।
  • তারপর ব্লগার ড্যাশবোর্ড হতে Settings Option এ ক্লিক করলে নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন।
কিভাবে ব্লগার Custom Domain এ HTTPS Enable করবেন?
  • এখানে উপরের চিত্রের HTTPS > HTTPS Availability হতে Yes সিলেক্ট করে দিলে অপশনটি একটিভ হয়ে যাবে। এই অপশনটি একটিভ করতে না পারলে এই লিংক হতে একটিভ করে নিতে পারবেন। তারপর কিছুক্ষন অপেক্ষা করলে নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন।
কিভাবে ব্লগার Custom Domain এ HTTPS Enable করবেন?
  • উপরের চিত্রের HTTPS Redirect হতে Yes সিলেক্ট করে দিলে আপনার ব্লগের সকল লিংকগুলি HTTP হতে HTTPS এ অটোমেটিক রিডায়রেক্ট হয়ে যাবে। এখন থেকে আপনার ব্লগের এড্রেস নিচের চিত্রের ন্যায় দেখতে পাবেন।
কিভাবে ব্লগার Custom Domain এ HTTPS Enable করবেন?
  • উপরের চিত্রে দেখুন আমাদের ব্লগের এড্রেস এর আগে সবুজ রংয়ের Secure আইকন সহ HTTPS আকারে শো করছে। That's all

HTTPS Enable করার পর করণীয় কি?

এই অপশনটি চালু করার পর আপনার ব্লগের এড্রেস এর বাম পাশে Secure শো না করলে বুঝতে হবে যে, আপনার ব্লগে HTTPS এবং HTTP Mixed Content রয়েছে। এগুলির পাশাপাশি আরো কিছু কাজ রয়েছে যেগুলি আপনাকে করতেই হবে। তা না হলে আপনার ব্লগের এসইও এর ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে।
  • ব্রাউজারের আইকন সবুল কালারের না হয়ে থাকলে আপনার ব্লগের পোস্ট এবং টেমপ্লেট এর HTTP লিংকগুলিকে HTTPS করে দিতে হবে। সেই সাথে JavaScript এর মধ্যে HTTP থাকলে সেগুলিও পরিবর্তন করে নিতে হবে।
  • গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস এ সাইট সাবমিট করা থাকলে সেটি ডিলিট করতঃ পুনরায় নতুনভাবে সাবমিট করতে হবে। এই কাজটি না করলে গুগল আপনার ব্লগের লিংক সম্পর্কে দ্বিধাদ্বন্দের মধ্যে পড়ে যাবে।
  • Google Gnalytics ব্যবহার করে থাকলে সেখানেও আগেরটি ডিলিট করে পুনরায় নতুন করে HTTPS ভার্সন সাবমিট করতে হবে।
  • Google Custom Search Box ব্যবহার করে থাকলে সেখানেও আগেরটি ডিলিট করে পুনরায় নতুন করে HTTPS ভার্সন সাবমিট করতে হবে।
  • ব্লগের ড্যাশবোর্ডের অভ্যন্তরে যে Robot.txt ফাইল রয়েছে সেটিও HTTPS করে দিতে হবে।
  • গুগল AdSense ব্যবহার করে থাকলে বিজ্ঞাপন শো না হলে এ্যাডসেন্স শো করানোর জন্য কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।

গুগল AdSense বিজ্ঞাপন শো না করলে করণীয় কি?

এই আর্টিকেলটি লিখার সময় গুগল এ্যাডসেন্স এর বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় পোস্টটি পুনরায় নতুন করে আপডেট করতে হল। আমাদের আর্টিকেলটি পড়ার পর অনেকে কমেন্ট করে বলেছেন যে, HTTPS Enable করার পর তাদের ব্লগে এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন শো করছে না। যারা এই সমস্যায় ভোগছেন তারা নিচের ধাপটি অনুসরণ করে খুব সহজে সমস্যা হতে পরিত্রান পেতে পারবেন।
  • প্রথমে ব্লগে লগইন করুন।
  • তারপর ব্লগার Template ও Widgets এর ভীতরে থাকা নিচের লাইনটির ন্যায় যে এ্যাডসেন্সের কোড রয়েছে সেটি ডিলিট করে দিতে হবে।
<script async src="//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js"></script>
  • উপরের লাইনটি ডিলিট করে ব্লগার Template এর </body> ট্যাগের উপরে নিচের কোডটি যুক্ত করুন।
<script type='text/javascript'>
//<![CDATA[
(function() { var ad = document.createElement('script'); ad.type = 'text/javascript'; ad.async = true; ad.src = 'https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js'; var sc = document.getElementsByTagName('script')[0]; sc.parentNode.insertBefore(ad, sc); })();
//]]>
</script>
  • তারপর Template Save করে বেরিয়ে আসুন।
  • উপরের কাজটি করার পরও আরো কিছু কাজ করতে হবে। কারণ ব্লগার ডেভেলপার টিম সম্প্রতি ব্লগার ড্যাশবোর্ডে Monitization Custom ad.txt নামে একটি অপশন চালু করেছে। গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীগণ এই অপশনটি অবশ্যই ঠিকমত একটিভ করে নিতে হবে।
  • অপশনটি চালু করার জন্য ব্লগার ড্যাশবোর্ড হতে Settings > Search Preferences এ ক্লিক করতঃ Monitization Custom ad.txt অপশনটি Yes করে দিতে হবে।
adsense-monitization-custom ad.txt
  • উপরের চিত্রের তীর চিহ্নিত Edit অপশনে ক্লিক করলে নিচের চিত্রটি দেখতে পাবেন।
adsense-monitization-custom ad.txt
  • এখানে উপরের চিত্রের ন্যায় Yes সিলেক্ট করে নিচের কোডগুলো খালি ঘরে বসিয়ে দিতে হবে।
google.com, pub-0000000000000000, DIRECT, f08c47fec0942fa0
  • সবশেষে Save Changes ক্লিক করলে কাজ হয়ে যাবে। তবে উপরের লাল কালারের কোড এর জায়গাতে আপনার এ্যাডসেন্সের কোডটি বসাতে হবে। এখন থেকে আপনার ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন শো করতে কোন সমস্যা হবে না।
সাহায্য জিজ্ঞাসাঃ HTTPS সংক্রান্ত সকল সমস্যা বর্ণনার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গভাবে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনি যদি কোন ধাপ বুঝতে না পারেন, তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে অথবা কোন গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধান সহ পরামর্শ সাধরে গ্রহন করতঃ ভবিষ্যতে আরো ভালভাবে আর্টিকেল লিখার ও শেয়ার করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ্।

৭ ফেব, ২০১৮

প্রফেশনাল লাইফে অত্যাধিক ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ দিন যাবত ব্লগে আর্টিকেল শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। অনেক দিন থেকে ব্লগে কনটেন্ট শেয়ার না করার কারনে আমাদের ব্লগের ভিজিটর বিভিন্ন প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন। আসলে কাজের ব্যস্ততার কারনে ব্লগে লিখার কোন সময় করতে পারছিলাম না। তাছাড়া বিভিন্ন টপিক নিয়ে আর্টিকেল শেয়ার করার জন্য অনেক অনুরোধও আমাদের ইনবক্সে জমা রয়েছে। সকলের চাহিদানুসারে প্রদত্ত আর্টিকেল বিষয়ে খুব শীঘ্রই আলাদা আলাদা পোষ্ট শেয়ার করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্।
অর্গানিক Backlinks ভালো নাকি পেইড ব্যাক লিংকস ভালো?
আজকের টপিকটি একটি বিতর্কীত বিষয়। কারণ এ বিষয়ে অনেক ওয়েব পন্ডিতগণের ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। আবার কোন কোন আইটি ব্যবসায়িগণ তাদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিল করার জন্য তাদের পছন্দের ব্যাক লিংকটিকে গুরুত্ব সহকারে ঘুরিয়ে পেছিয়ে ক্লায়েন্ট এর কাছে উপস্থাপন করেন। তারা তাদের ক্লায়েন্টকে কিছু বিষয় হিডেন রেখে ব্যাক লিংকসের অন্যান্য গুরুত্বগুলি বুঝিয়ে থাকেন। আমি অনেক দিন আগে একজন ওয়েবমাষ্টার তার ক্লায়েন্টকে এ ভাবে বুঝাতে দেখেছি যে, ব্যাক লিংক আবার ফ্রি বা পেইড কি, যেটা নেবেন সেটাই সমান গুরুত্ব বহন করবে। তাছাড়া এসইও বিষয়ে আমার সাথে মাঝে মধ্যে দু-চার জন ক্লায়েন্ট এর যোগাযোগ হয়। তারা আমাকে এসইও করার পাশাপাশি ব্যাক লিংক তৈরি করে দেওয়ার জন্য বলেন। এ বিষয়ে আমি কাজ নেব না মর্মে সরাসরি জানিয়ে দেই। কারণ আমি আমার ক্লায়েন্টদের কখন ঠকাতে চাই না।

উপরের প্যারাটি পড়ে আপনাদের মনে হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে যে, আমি বার বার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে যাচ্ছি কিন্তু মূল বিষয়ে কোন কিছু লিখছি না কেন? আসলে মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বল্লাম। কারণ মূল বিষয়ে সরাসরি বল্লে বিষয়টি আপনাদের কাছে বোধগম্য বা সহজবোধ্য হবে না।

যারা ব্যাক লিংক বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানেন না তারা আমাদের ব্লগের Backlink সম্পর্কিত পূর্বের পোস্টগুলি পড়ে নেবেন। তাছাড়া No Follow ও Do Follow ব্যাক লিংক কি এবং কোথায়, কিভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে আমাদের ব্লগে ইতোপূর্বে বিস্তারিত শেয়ার করা হয়েছে। কাজেই কেউ যদি ব্যাক লিংক সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান না রাখেন তাহলে আমাদের ব্লগের পোস্টগুলি পড়ে নেবেন। তবেই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিয়ে আপনার ব্লগের জন্য কি ধরনের ব্যাক লিংক প্রয়োজন সে বিষেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারবেন।

ব্যাক লিংক কেন প্রয়োজন?

সাধারণত সর্বপ্রথম যখন একটি ওয়েবসাইট/ব্লগ লাউঞ্চ করা হয় তখন সার্চ ইঞ্জিন সহ ভিজিটর কেউই সদ্য চালু হওয়ায় ব্লগ সম্পর্কে জানে না বা চেনে না। এ ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন ও ভিউয়ারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্লগের গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য ব্যাক লিংকস এর প্রয়োজন হয়। আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করছেন সে বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য ব্লগের পোষ্টের অভ্যন্তরে যদি আপনার ব্লগের লিংক তৈরি করতে পারেন তাহলে ঐ পোস্ট হতে আপনার পোস্টটি লিংক জুস ভয়ে আনার পাশাপাশি কিছু ট্রাফিক এনে দিয়ে ভিজিটরদের সাথে আপনার ব্লগটির পরিচয় ঘটিয়ে দিতে সক্ষম হবে। অন্তত সাধারণ এই দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের কাছে ব্যাক লিংকস এর গুরুত্ব রয়েছে। তাছাড়া একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংকিং বৃদ্ধিতেও ব্যাক লিংকস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কাজেই আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে, একটি ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাক লিংকস কেন প্রয়োজন।

অর্গানিক ও পেইড ব্যাক লিংক কি?

সহজভাবে বলা যায় যে, দীর্ঘ দিন ব্লগিং করার পর যখন ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন অটোমেটিকভাবে অন্যান্য ব্লগের সাথে যে লিংক তৈরি হয় সেটিই হচ্ছে অর্গানিক ব্যাক লিংক। পক্ষান্তরে টাকার বিনিময়ে যে ব্যাক লিংকগুলি বিভিন্ন থার্ড পার্টি ব্লগ কিংবা ওয়েবমাস্টারদের নিকট থেকে কেনা হয়ে থাকে সেগুলি হচ্ছে পেইড ব্যাক লিংক। সুতরা বুঝতেই পারছেন অর্গানিক ব্যাক লিংকসের জন্য টাকা প্রয়োজন হয় না, অন্যদিকে পেইড লিংকস টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

অর্গানিক নাকি পেইড ব্যাক লিংকস প্রয়োজন?

আমি আগেই বলেছি অর্গানিক বা অরিজিনাল ব্যাক লিংক ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে অটোমেটিক বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে নতুন ব্লগ লাউঞ্চ করার পর আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য ব্লগে কমেন্ট এবং বিভিন্ন ব্লগে গ্যাস্ট ব্লগার হিসেবে জয়েনসহ ফোরামে অংশগ্রহনের মাধ্যমে সহজে ভালমানের ব্যাক লিংকস বৃদ্ধি করা যায়। এ বিষয়টি নতুন অবস্থায় একটি ব্লগের ব্যাক লিংকস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। যেহেতু অর্গানিক ব্যাক লিংক নিজে অথবা সময়ের সাথে সাথে অন্যরা আপনার ব্লগের গুরুত্ব বুঝে তাদের ব্লগের সঙ্গে যুক্ত করবে সেহেতু এই ধরনের লিংকস আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে মিল রয়েছে এমন ব্লগের সাথেই যুক্ত হয়ে ব্যাক লিংক তৈরি করবে অর্থাৎ আপনার ব্লগের বিষয় এবং যে ব্লগ হতে ব্যাক লিংকস তৈরি হয়েছে সেই ব্লগের বিষয় একই বা পাশাপাশি হবে।

অন্যদিকে যারা বিভিন্ন ওয়েবমাস্টার বা আইটি কোম্পানির নিকট হতে চুক্তির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ব্যাক লিংকস তৈরি করে থাকেন, তারা আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে মিল রয়েছে এমন ব্লগ হতে ব্যাক লিংক তৈরি করে দেন না। এ ক্ষেত্রে তাদের নেটওয়ার্ক এর আওতায় যে সমস্ত ওয়েবসাইট এবং ব্লগ রয়েছে সেই সমস্ত ব্লগ হতে খুব সহজে এবং অল্প সময়ে ব্যাক লিংক তৈরি করে দেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগের বিষয় ও লিংকস তৈরি হওয়া ব্লগের বিষয়ের মিল না থাকায় ব্যাক লিংকসগুলি ভিজিটর ও সার্চ ইঞ্জিন কারো নিকট হতে তেমন কোন গুরুত্ব বয়ে আনতে পারে না। আমি উদাহরনের মাধ্যমে বিষয়টি আপনাদেরকে আরো পরিষ্কার করছি। তবে উদাহরন দেওয়ার আগে আরো দুটি কথা শেয়ার করব। তারপর উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।

এই পোস্টটি লিখার সূত্রপাত ঘটে আমার এক ক্লায়েন্টের মাধ্যমে। গতকাল একজন ওয়েব ডিজাইনার তার ওয়েবসাইটের এসইও করার জন্য আমার কাছে আসেন। প্রথমেই তার ওয়েবসাইটটি আমাকে দেখানোর জন্য বলি। তার সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে হোস্টিং করা এবং ডোমেন ও হোস্টিং GoDaddy থেকে নেওয়া। তার ওয়েবসাইটের বিষয় ছিল ওয়েব ডিজাইনের স্কিল টেস্টিংয়ের উপর। প্রথমে দেখে আমি মনেকরেছিলান এটা খুব নরমাল একটি বিষয়। তবে পরবর্তীতে সবকিছু দেখার পর বুঝতে পারলাম যে, ভালমানের অনেক কিছু রয়েছে। বিস্তারিত দেখে এবং আলোচনা করে বুঝতে পারলাম উনি মোটামোটি ভালমানের একজন ওয়েব ডিজাইনার। তিনি চেয়েছিলেন তার ওয়েবসাইটের পরিপূর্ণ এসইও সংক্রান্ত কাজ করাতে। আমি তার সাথে রাজি হয়েছিলাম এবং মোটামোটি সবকিছু ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হল তাকে পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যাক লিংকস তৈরি করে দিতে হবে। তখন আমি তাকে বল্লাম ব্যাক লিংক তৈরি করতে হয় না। এটা সময়ের সাথে সাথে অটোমেটিক হয়ে যায়। এ বিষয়টি আপনি নিজে নিজেই করতে পারেন। কিভাবে করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার মতের সাথে কোনভাবে একমত হতে চায়নি। অবশেষে তার সাথে আমার এসইও সংক্রান্ত ডিল বাতীল করতে বাধ্য হই।
অর্গানিক Backlinks ভালো নাকি পেইড ব্যাক লিংকস (পার্থক্য)?
আমাদের ব্লগের ব্যাক লিংকস
উদাহরণঃ ধরুন আপনি এ্যাপেক্স শো কোম্পানির একজন নিয়মিত ব্যবসায়ি। আপনার কোম্পানির নিয়মিত পন্য হচ্ছে বিভিন্ন নিত্য নুতন বাহারি ডিজাইনের শো। আপনি বিভিন্ন সময়ে ক্রেতাদের চাহিদানুসারে সময় উপযোগী নুতন নুতন শো ডিজাইন করে আপনার দোকানে রাখার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি কখনো চাইবেন না যে, আপনার শো মার্কেটের ভীতরে একটি চায়ের দোকান বসিয়ে দিতে। কারণ সর্বস্তরের লোকজন জানেন এ্যাপেক্স হচ্ছে একটি ভালমানের শো কোম্পানি। এখানে চা খেতে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। তারপরও ভূলক্রমে কোন এ্যাপেক্স মার্কেটে চায়ের দোকান বসালে সেখানে চাঁ খেতে যাওয়া কাস্টমারের সংখ্যা কখনো ৫% এর বেশী হবে না।

ঠিক একই ভাবে আপনার ব্লগের ওয়েব ডিজাইন বিষয়ে লিখা কোন একটি পোস্ট আরেকজন কবিতা বা গল্প নিয়ে কাজ করা ব্লগের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যাক লিংক তৈরি করলেও ঐ ব্লগের পাঠক আপনার ওয়েব ডিজাইন সংক্রান্ত ব্লগ পোস্টটি পড়তে আসবে না। কারণ একজন কবিতা পাঠকের কাছে ওয়েব ডিজাইন বিষয়টা মূল্যহীন। তিনি স্বভাবত ওয়েব ডিজাইন বিষয়টি পড়তে চাইবেন না বা তিনি এই বিষয়টা বুঝবেনও না। এ ক্ষেত্রে তার কাছে বিষয়টি বিরক্তকর মনে হবে। অন্যদিকে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার যখন ঐ ব্লগে প্রাপ্ত আপনার ব্লগের লিংকটি পেয়ে লিংক ত্রো করে আপনার ব্লগে এসে দেখতে পাবে যে, আপনার ব্লগের আর্টিকেল এবং সেই ব্লগের আর্টিকেলের কোন মিল নেই তখন সার্চ ইঞ্জিন এটিকে স্প্যাম হিসেবে মার্ক করে নিবে। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্লগ হতে প্রাপ্ত ব্যাক লিংকটি হিতের বিপরীত কাজ করবে।

উপরের আলোচনা ও বিশ্লেষণ থেকে আমি আপনাদের এই বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছি যে, আপনি যে ভাবে ব্যাক লিংক তৈরি করুন না কেন সেটা যেন হয় আপনার ব্লগের কনটেন্টের সাথে সম্পৃক্ত। কোনক্রমেই যাতে চায়ের দোকানে আলু, পঠল ও মরিচ এর ব্যবসা শুরু করার মত না হয়। আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ করেন তবে ওয়েব ডিজাইন নিয়ে কাজ করছে এমন অন্যান্য ওয়েবসাইট হতে ব্যাক লিংক তৈরি করার চেষ্টা করবেন। এন্ড্রয়েড মোবাইল নিয়ে কাজ করলে এন্ড্রয়েড সংক্রান্ত ওয়েবসাইট হতে লিংক তৈরি করার চেষ্টা করবেন। ঠিক একই ভাবে আপনি যখন ইন্টারন্যাল ব্যাক লিংক তৈরি করবেন তখন খেয়াল রাখবেন পোষ্টটির সাথে পরিপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন পোষ্ট লিংক হিসেবে যুক্ত করে দেবেন। অযথাই লিংক তৈরি করে পোষ্টটির মূল্য সার্চ ইঞ্জিনের কাছে কমিয়ে দেবেন না।

সিদ্ধান্তঃ উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন যে, প্রকৃতপক্ষে একজন ব্লগার এর জন্য কোন ধরনের ব্যাক লিংকস প্রয়োজন। শুধু শুধু টাকা নষ্ট করে অল্প দিনে বেশী করে ব্যাক লিংকস তৈরি করে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন অল্প দিনে সাফল্য হাতে পেতে চাইলে মাঝ পথে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাংক লিংকস তৈরির ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনি প্রথমে ভালমানের আর্টিকেল এর সমন্বয়ে ব্লগিং চালিয়ে যান। তারপর কিছু সংখ্যক আর্টিকেল শেয়ার করার পর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শুরু করুন। সবশেষে আপনার ব্লগের সাথে সম্পৃক্ত এমন ভালমানের ব্লগ/ওয়েবসাইটে গ্যাস্ট ব্লগিং করুন এবং বিভিন্ন ফোরামে জয়েন করে প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে আপনার ব্লগের লিংক শেয়ার করুন। তাহলে সার্চ ইঞ্জিন নিকট হতে যেমন আপনার ব্লগ গুরুত্ব পাবে তেমনি পাঠকগণও আপনার ব্লগ হতে সমাধাণ পেয়ে নিয়মিত ব্লগ ভিজিট করবে।

১০ জানু, ২০১৮

গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপ ব্যবহার করে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে AdSense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। তারপরও সবার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি আসলে সত্য বা সম্ভব? আমি কি সব সময় Google AdSense থেকে টাকা উপর্জন করতে পারবো? আমি কি ওখান থেকে ‍উপার্জিত টাকা দিয়ে সব কিছু চালিয়ে যেতে পারবো?
প্রশ্নের আলোকে গুগল AdSense সংক্রান্ত সকল সমস্যার সংক্ষিপ্ত সমাধান!
আমাদের ব্লগে ইতোপূর্বে গুগল এ্যাডসেন্স বিষয়ে অনেক পোষ্ট রয়েছে। তারপরও ফেইসবুক কমিউনিটি পেজে অনেকে বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট প্রশ্ন করে থাকেন। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় ঐ সহজ প্রশ্নগুলির উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে হয়। সে জন্য আজ আমি সকল ছোট প্রশ্নগুলির উত্তর প্রশ্নভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সবার সমনে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করব।

পোষ্টটি শুরু করার পূর্বে আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি যে, গুগল এ্যাডসেন্স গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ হতে বাংলা ভাষা সাপোর্ট করছে। বিষয়টি যারা এখনো জানেন না তারা অবগত হয়ে তাদের বাংলা ব্লগের মাধ্যমে গুগল এ্যাডসেন্সর জন্য আবেদন করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, আমাদের প্রযুক্ত ডট কম ব্লগটিও বাংলা কনটেন্ট দিয়ে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে গুগল এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছে।

গুগল এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বেসিক প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স কি?
  • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। যার মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় পন্যের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারেন। অন্যদিকে এ্যাডসেন্স পাবলিশাররা তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স থেকে কি আয় করা সম্ভব?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ বাংলা ওয়েবসাইট থেকে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ আগে পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি গুগল বাংলা ওয়েবসাইটে অনুমোদন দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের ব্লগকে অনুসরণ করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদনের জন্য বাংলা ওয়েবসাইট ভাল নাকি ইংরেজী ওয়েবসাইট ভাল?
  • উত্তরঃ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দুটি ভাষা সমান। তবে বাংলা ওয়েবসাইটের চাইতে ইংরেজী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশী আয় করা যায়।
  • প্রশ্নঃ শুনলাম এশিয়া মহাদেশ থেকে এ্যাডসেন্স পাওয়া খুব কঠিন বিষয়?
  • উত্তরঃ এই তথ্যটি সঠিক নয়। একটি পরিপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্লগের মাধ্যমে যে কোন দেশ থেকে সহজে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করা সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ বাংলাদেশে নাকি ৬ মাসের পূর্বে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে না?
  • উত্তরঃ এটিও সঠিক নয়। তবে একটি ব্লগকে এ্যাডসেন্সের জন্য পরিপূর্ণ উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রায় ৬ মাসের অধিক সময় লেগে যায়। সে জন্য ব্লগের বয়স নূন্যতম ছয় মাস হওয়ার আগে এ্যাডসেন্সের আবেদন করতে অভিজ্ঞরা নিষেধ করেন। তবে এর আগে যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে ছয় মাসের পূর্বেই এ্যাডসেন্স পাওয়া সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ আবেদন করার পূর্বে কমপক্ষে কতগুলো পোষ্ট থাকতে হবে?
  • উত্তরঃ ভালমানের আর্টিকেলের সমন্বয়ে কমপক্ষে ২৫/৩০ টি পোষ্ট রাখা প্রয়োজন।
  • প্রশ্নঃ প্রত্যেকটি পোষ্টের জন্য কি পরিমান আর্টিকেল হলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ প্রত্যেকটি পোষ্টে ৪০০/৫০০ ওয়ার্ড রাখাটা ভাল।
  • প্রশ্নঃ কপি করা আর্টিকেল দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ আদৌ কেউ অনুমোদন পায়নি এবং ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়!
  • প্রশ্নঃ কাষ্টম ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ আগে পাওয়া যেত কিন্তু সম্প্রতি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি টপ লেভেলের ডোমেন নিয়ে তার পর এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার স্বপক্ষে গুগল নিজেও পরামর্শ দিচ্ছে।

আবেদন করার পূর্বে করণীয় কি?

  • প্রশ্নঃ ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করলে ভাল নাকি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করলে ভাল হয়?
  • উত্তরঃ আপনি যেটি দিয়ে ব্লগিং করেন না কেন এ্যাসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পাবে।
  • প্রশ্নঃ কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করব নাকি ডিফল্ট থিমস নিয়ে?
  • উত্তরঃ একটি ভালমানের কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করাটাই উত্তম।
  • প্রশ্নঃ শুনেছি ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগিং করলে নাকি ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না?
  • উত্তরঃ এটা ঠিক নয়। আপনার ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে ব্লগস্পট নিয়ে কাজ করে ভাল র‌্যাংক করা কোন ব্যাপারই না।
  • প্রশ্নঃ ডট কম ডোমেন ভাল নাকি ডট নেট হলে ভাল হয়?
  • উত্তরঃ আমি সবসময় ডট কম ডোমেন নেওয়ার পরামর্শ দেব।
  • প্রশ্নঃ কত অক্ষরের ডোমেন নেম হলে ভালো হয়?
  • উত্তরঃ পাঁচ অক্ষর থেকে শুরু করে পনের অক্ষরের মধ্যে রাখাটা ভাল।
  • প্রশ্নঃ কোন ধরনের টপিক নিয়ে কাজ করলে এ্যাডসেন্স দ্রুত অনুমোদন হবে?
  • উত্তরঃ গুগল সবসময় প্রযুক্তি বিষয় সংক্রান্ত ব্লগকে প্রধান্য দিয়ে থাকে?
  • প্রশ্নঃ নিস হিসেবে Blogspot টিউটোরিয়াল কেমন?
  • উত্তরঃ অবশ্যই ভাল। পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইন এবং এসইও নিয়ে লিখতে পারলে দ্রুত এ্যাডসেন্স পাওয়ার আশা করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ এসইও করলে নাকি দ্রুত এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ সঠিকভাবে এসইও করা ব্লগকে এ্যাডসেন্স অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করে। কারণ প্রোপার এসইও করা ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
  • প্রশ্নঃ ব্লগে About Us, Contact, Privacy Policy রাখা কি বাধ্যতামূলক?
  • উত্তরঃ এগুলো আপনার ব্লগ সম্পর্কে পাঠকদের স্বচ্ছ ধারনা দেয়। কাজেই এই পেজগুলি রাখলে ভাল ফলাফল পাবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্লগের এ পেজগুলি অনেক গুরুত্ব বহন করে।
  • প্রশ্নঃ নিউজ, ভিডিও এবং ফ্রি নেট বিষয়ে গুগল এ্যাডসেন্স  অনুমোদন হয় নাকি?
  • উত্তরঃ সার্চ ইঞ্জিনের কাছে এগুলোর গুরুত্ব খুবই কম। সে জন্য এই টপিক গুলিতে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয় না বল্লেই চলে। তবে জনপ্রিয় করতে পারলে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • প্রশ্নঃ ইউনিক কনটেন্টের সাথে গুগল থেকে Image নিয়ে পাবলিশ করলে কোন সমস্যা হবে কি না?
  • উত্তরঃ অন্য ওয়েবসাইটের লগোযুক্ত ছবি ব্যবহার না করলে সমস্যা হবে না। তবে কেউ যদি তার ব্লগের ছবি সম্পর্কে রিপোর্ট করে, তাহলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • প্রশ্নঃ সাইটে পর্যাপ্ত ইউনিক আর্টিকেল রয়েছে কিন্তু ভিজিটর কম, এ ক্ষেত্রে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
  • উত্তরঃ পাওয়া যাবে, কারণ গুগল এ্যাডসেন্স সাইটের ট্রাফিককে খুব বেশী গুরুত্ব দেয় না। ভালমানের পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে।
  • প্রশ্নঃ ডট TK ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
  • উত্তরঃ না।
  • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে কি কি Check List তৈরি করা দরকার?
  • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই কিছু Check List তৈরি করা ভাল। যেমন-ব্লগের সকল পোস্ট ৮০-৯০ ভাগ ইউনিক কিনা এবং গুগল পলিসির ভিতরে আছে কিনা। ব্লগের সকল গুরুত্বপূর্ণ পেজ ঠিক আছে কিনা। ওয়েবসাইটে ২৫-৩০ টি পাষ্ট ঠিকমতো ইনডেক্স হচ্ছে কিনা। ব্লগের ডিজাইন এবং এসইও ফ্রেন্ডলি কিনা সেটা চেক করতে হবে। সাদা সিদে ন্যাভিগেশন এবং লেয়াউট এ সব দরকারি জিনিস রাখতে হবে। সার্চ ইঞ্জিনে কিছু Organic Keywords এ ভাল Rank করালে এক্সট্রা পায়রিটি পাওয়া যাবে। সবকিছু ঠিকমতো থাকলে অল্প দিনে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।

হোস্টেড ও নন-হোস্টেড একাউন্ট কি?

  • প্রশ্নঃ Hosted AdSense বলতে কি বুঝানো হয়?
  • উত্তরঃ গুগল ব্লগার, YouTube এবং AdMob দ্বারা ব্যবহৃত এ্যাডসেন্স হচ্ছে Hosted AdSense.
  • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense বলতে কি বুঝায়?
  • উত্তরঃ নিজস্ব সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট হচ্ছে Non Hosted AdSense.
  • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense এর জন্য Alexa rank কোন প্রভাব বিস্তার করে?
  • উত্তরঃ না।
  • প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে Non Hosted AdSense এর জন্য কোন Niche বেশী অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে Smartphone Review, Education Result এবং Technology সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়।
  • প্রশ্নঃ Hosted ও Non Hosted AdSense এর মধ্যে পার্থক্য কি?
  • উত্তরঃ এই দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে Hosted শুধুমাত্র গুগলের ব্লগার, YouTube এবং AdMob এ ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে নিজস্ব সাইটে Non Hosted AdSense সর্বোচ্চ ৫০০ টি Website এ ব্যাবহার করা যায়।
  • প্রশ্নঃ Hosted Account কি Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ করা যায়, গুগল পলিসি অনুসারে ব্লগ তৈরি করে আবেদন করে Hosted Account থেকে Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়।

এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিবিধ প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ আমি কি গুগল AdSense এর জন্য Sub Domain ব্যবহার করতে পারি?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ পারেন, তবে আগে টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে অনুমোদন করাতে হবে, তারপর সাব ডোমেইন এ অ্যাডসেন্স ব্যাবহার করতে পারবেন ।
  • প্রশ্নঃ Troll সাইটে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে এবং এ ক্ষেত্রে কি ধরনের আর্টিকেল প্রয়োজন?
  • উত্তরঃ যদি গুগলের নীতিমালা ভঙ্গ না করে, তবে ভালো মানের ২৫/৩০ টি পোস্ট দিয়ে অনুমোদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যে কোন প্রোডাক্ট বেইজ ও ইনফরমেটিভ ব্লগ তৈরি করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ ব্লগের বেশীরভাগ ভিজিটর Facebook থেকে আসলে কি AdSense অনুমোদন সম্ভব?
  • উত্তরঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেবে। তবে ফেসবুকের ভিজিটরের চাইতে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা ভিজিটরের মূল্য বেশি। সে ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব দিতে হবে।
  • প্রশ্নঃ কিভাবে এ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে রক্ষা করব এবং আয় বৃদ্ধি করব?
  • উত্তরঃ অ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এ্যাডসেন্সের পলিসি অনুসরণ করে ব্লগিং করতে হবে। আয় বৃদ্ধি করার জন্য ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এ্যাডসেন্স CTR, CPC ও RPM রেট বৃদ্ধি করতে হবে।
  • প্রশ্নঃ ভালমানের আর্টিকেল মানে কি? ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেলের কি কি গুন থাকা দরকার? আর্টিকেলের মান ভালো না খারাপ সেটা চেক করার কি কোন উপায় আছে?
  • উত্তরঃ আপাত দৃষ্টিতে ভালমানের আর্টিকেল বলতে ইউনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলকে ‍বুঝায়? যে আর্টিকেল গুলির ডিমান্ড সর্বস্তরে রয়েছে, সেগুলিই হচ্ছে ভালমানের আর্টিকেল। Google Keyword Planner দিয়ে খুব সহজে আর্টিকেলের মান যাচাই-বাছাই করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ আমার ব্লগে যদি ৫০ ভাগ ইউনিক পোষ্ট থাকে, তবে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে? অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনটা বেশি জরুরি, ইউনিক পোস্ট  নাকি ভিজিটর?
  • উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অ্যাডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভিজিটরের চাইতে ইউনিক পোষ্টকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
  • প্রশ্নঃ ব্লগের Privacy পেজ কিভাবে তৈরি করব? অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে নিলে কোন সমস্যা হবে কি না?
  • উত্তরঃ অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে Privacy পেজ তৈরি করতে পারেন। তবে আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা পরিবর্তন করবেন। এ পদ্ধতীতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিষদ প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ আমার একটা ব্লগ আছে ব্লগার এ Domain এখনো Set করা হয়নি, কিছুদিন এর মধ্যে Domain Set করব। এখন পর্যন্ত ৫০ টা পোস্ট করা হয়েছে। সব পোস্ট ৮০% Unique. ব্লগে প্রতিদিন ১০০+ ভিজিটর আসে। ডোমেন Set করার কতদিন পর AdSense Apply করলে Approve পেতে পারি। আমার Content এর যদি কোনো Problem থাকে এবং আমি যদি সেটা একবার Apply করার পর বুজতে পারি এবং সেই Content গুলো Delete করে দিয়ে আবার Fresh কনটেন্ট পোস্ট করে পুনরায় Apply করি তাহলে কি Problem হবে কিংবা Approve হবে?
  • উত্তরঃ কোথায় ডোমেইন সেট করবেন? ব্লগারে? আমি বলবো না। নিজস্ব সাইট বানান। ডোমেইন সেট করলে এক মাস পরে এপ্লাই করে দেখুন। কনটেন্ট ভালো মানের হলে এপ্রুভ পেয়ে যাবেন। কপি পেস্ট মুক্ত ফ্রেশ কনটেন্ট। অবশ্যই গ্রামার, সেন্টেন্স এবং কতো % ইউনিক সেটা মাথায় রাখতে হবে, আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। ডিলেট করলে বিপদে পড়বেন। 404 not Found আসবে আর সাইটের Rank হারাবেন। কনটেন্ট আপডেট কিংবা রি – রাইট করলে ভালো হবে।
  • প্রশ্নঃ ভাই Adsense পেতে সাইটের বয়স কত লাগবে? কতগুলো পোষ্ট আর কি রকম এসইও করা লাগবে?
  • উত্তরঃ গুগল এর মেইন শর্ত হচ্ছে হাই কুয়ালিটি ভালো মানের কনটেন্ট এবং ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে সাইট বানাতে হবে। তারপর সাইটে ৪০-৫০ দিন সময় নিয়ে ৪০-৫০ টা ইউনিক আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। সাইটে About, Privacy, Contact us & DMCA পেজ গুলো ঠিক মতো পাবলিশ করতে হবে। সাইটের সকল পোস্ট Google Webmaster এ সাবমিট করতে হবে। তারপর হালকা পাতলা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করুন। তারপর সাইটের বসয় ৫০-৬০ দিন হলে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্লাই করুন। অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হতে সময় লাগবে না।
  • প্রশ্নঃ Google Adsense এর টাকা কিভাবে উঠানো যায়?
  • উত্তরঃ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের সবাই চেক দিয়ে টাকা ক্যাশ করাতাম। মাস খানিক সময় লাগতো টাকা ক্যাশ করতে। এখন EFT আছে, সরাসরি ৪-৫ দিনেই টাকা ব্যাংক এ চলে আসে। ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক দিয়ে টাকা উত্তোলন করা যায়।
  • প্রশ্নঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking কিভাবে অ্যাড করা যায়? সাধারণত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাড করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কি করতে হয়?
  • উত্তরঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking হিসাবে অ্যাড করা যায়। Adsense & Domain Parking গ্রুপের কয়েক জন DBBL Mobile Banking দিয়ে টাকা তুলে। আমি কখনো ইউজ করি নাই। সম্ভবত Account No. এর জায়গায় Mobile Banking নাম্বার দিতে হয়। যারা ইউজ করে, তারা আরও বিস্তারিত বলতে পারবে।
  • প্রশ্নঃ অ্যাডসেন্স Approve পাওয়ার পর যদি আমি আমার সাইট এর Banner বা অন্য কোথাও সাইট এর Related Niche এর cpa বা অন্য কোন Product এর Promotion করি, তাহলে কি AdSense এর কোন Problem হবে?
  • উত্তরঃ Promotion/cpa তে যদি গুগল পলিসি ভঙ্গ করে এমন কিছু থাকে, তাহলে ব্যাবহার না করাই ভালো। তবে Amazon & Adsense একই সাইটে ব্যাবহার করা যায়। কোন সমস্যা হয় না।
  • প্রশ্নঃ আমার YouTube AdSense Account আছে। Non Hosted Ste এর জন্য কি আমি AdSense apply করতে পারব? এক্ষেত্রে কি কোন Problem এ পরতে হবে? YouTube and Website এর জন্য ২ টার Earning কি একসাথে দেখাবে, নাকি আলাদা আলাদা দেখাবে?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ পারবেন। ঝামেলাযুক্ত কাজ। তবে এর চেয়ে নতুন নেওয়া অনেক সহজ । সব রিপোর্ট আলাদা দেখতে পারবেন।
  • প্রশ্নঃ বর্তমান ইউটিউব অ্যাডসেন্স কি ব্লগার এ ব্যবহার করা সম্ভব? যদি যায় তাহলে বর্তমানে কিভাবে করব?
  • উত্তরঃ সম্ভব না। ভালোমানের ব্লগ তৈরি করে Upgrade করে নিতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ আমার যদি ইতোমধ্যেই একটি AdSense একাউন্ট থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে আমার ছোট ভাই আরেকটি একাউন্ট এপ্লাই করতে পারবে যদি বাড়ির এড্রেস একি হয়?
  • উত্তরঃ আলাদা সাইট, আলাদা কম্পিউটার আইপি, আলাদা ঠিকানা এবং আলাদা Payee Name দিয়ে সহজেই এপ্রুভ পাবেন। আশা করি কোন ঝামেলা হবে না।
নোটঃ এই পোষ্টের সকল আর্টিকেল আমার নিজের লেখা নয়। পোষ্টের ৪০% আর্টিকেল জনাব রুবেল এর বাংলা ব্লগ “রুবেল এসবিএস” থেকে নেওয়া। তবে আমার পোষ্টটি শুরুর দিকে উনার ব্লগ থেকে কনটেন্ট নেওয়ার টার্গেট ছিল না। পোষ্টের কিছু আর্টিকেল লিখার পর অনলাইনে সার্চ করতে গিয়ে উনার পোষ্টটি পেয়ে যাই। যদিও আর্টিকেল আমি নিজেই লিখতে পারতাম কিন্তু পোষ্টের বেশীরভাগ লেখা উনার লেখার সহিত মিলে যেত। সে জন্য পোষ্টের শেষের আর্টিকেল নিজে না লিখে উনার ব্লগ থেকে নিয়েছি। মিঃ রুবেল এর ব্লগ পোষ্টের আর্টিকেল কপি করার তিন দিন আগে উনার অনুমতি চেয়ে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম কিন্তু উনি আমাকে হ্যাঁ কিংবা না কোন উত্তর দেননি। আমার মনেহয় উনি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্লগ থেকে দূরে আছেন বিধায় আমার মেইল পড়তে পারেননি। ভবিষ্যতে উনি আমার পোষ্টটির আর্টিকেলের Fair Usage Policy মানতে না চাইলে আমরা তার কনটেন্ট যে কোন সময় মুছে দেব।

৮ জানু, ২০১৮

আমার ব্লগে ইতোপূর্বে যতগুলো পোষ্ট রয়েছে তার সবগুলো লেখার মধ্যে কোন না কোন কাজের বিষয় রয়েছে। আজ আমি কাজের বাহিরে সম্পূর্ণ ব্যতীক্রম ধর্মী লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা বলতে পারেন এক ধরনের মজার বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আজকের আর্টিকেলটি লিখার পূর্বে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, লেখাটি কারো কারো পক্ষে হতে পারে আবার কারো কারো বিপক্ষেও হতে পারে। কারণ এই বিষয়গুলি আমার তিন বৎসরের ব্লগিং অভীজ্ঞতা ও বাস্তবতা থেকে অর্জন করেছি। আজকের প্রত্যেকটা বিষয় আমার ক্লায়েন্ট ও ভিজিটরদের বিভিন্ন প্রশ্ন থেকে নিয়েছি। অনেকে আমার সাথে ফোনে ও ইমেইলে যোগাযোগ করে যে সকল প্রশ্ন করেছেন সে প্রশ্নের আলোকে আজকের পোষ্টটি সাজিয়েছি। সেই কারনে কেউ হয়ত বলতে পারেন যে, ভাই ব্লগিং ও অনলাইন আয়ের বিষয়ে অনেক কিছু জানতাম না বিধায় আপনার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু আপনি বিষয়টি সবার সামনে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করলেন। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই আমি আপনাদের কারো নাম প্রকাশ করব না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লগিং এর অবস্থা ও কৌতুহলী কিছু বিষয় !
আমি পোষ্টের সকল বিষয় এক সাথে বর্ণনা না করে টপিক আকারে আলাদা আলাদাভাবে লিখব। এক সাথে করলে হয়ত সবগুলি বিষয় পড়ে আনন্দ পাবেন না। তবে টপিক আকারে উপস্থাপন করলে মজা নেওয়ার পাশাপাশি ব্লগিং এর বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে আপনার ভূলগুলি সংশোধন করে নিতে পারবেন।

অনলাইন আয়ের বিষয়ঃ

  • অনলাইনে কি আয় করা সম্ভবঃ এটি অত্যান্ত কমন একটি প্রশ্ন। যারা সদ্য ইন্টারনেটে পা রেখেছে তারা কিছু বাংলা ও ইংরেজী সাইট ঘেটে জানতে পারে যে, ফ্রি ল্যান্সিং ও ব্লগিং সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনলাইন হতে আয় করা যায়, কিন্তু কিভাবে আয় করতে হবে বা কিভাবে শুরু করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা পায় না। যার জন্য মনে করে এগুলি ফালতু বিষয়। অনলাইন হচ্ছে ফেইসবুকিং ও ইউটিউব ভিডিও দেখার একটি মাধ্যম মাত্র। একজন আমার ব্লগে অনলাইনে আয়ের একটি পোষ্ট দেখে আমাকে সরাসরি ফোনের মাধ্যমে বলছেন, ভাই এটা কি ফালতু বিষয় শেয়ার করছেন। অনলাইনে আবার আয় করার যায় নাকি। অনলাইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র বিভিন্ন জিনিস দেখা যায় কিংবা খোজা যায়। এখানে আয় আসবে কোথা থেকে। আমি তখন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেঠে দেই। কারণ উনাকে আমি উত্তর দিয়ে কোন কিছু বুঝাতে সক্ষম হব না। এই হচ্ছে বাংলাদেশী ব্লগারদের বেসিক জ্ঞানের অবস্থা।
  • আর্টিকেল ব্লগিং এর ক্ষেত্রে-১ঃ ব্লগিং এর ক্ষেত্রে আমি সবচাইতে বেশী যে প্রশ্নের সম্মুখিন হই সেটি হচ্ছে অনলাইন ইনকাম। আমি এমন অনেক লোক পেয়েছি যিনি আমাকে রাত দুইটার সময় মোবাইলে কল করে জিজ্ঞেস করেছেন, ভাই আমার একটা ব্লগ আছে যেটি সাত দিন হয় শুরু করেছি। আমার এই ব্লগ দিয়ে কিভাবে অনলাইন হতে ইনকাম করব। এত রাতে যদি কেউ আপনাকে কল করে ঘুম ভাঙ্গিয়ে এই প্রশ্ন করে তাহলে আপনি এই প্রশ্নের উত্তরে কি বলবেন? এমন বেকুফি প্রশ্নের জন্য তাকে খাটি বাংলা ভাষায় কিছু গালিগালাজ করার জন্য বলবেন। তবে আন্তরিকতার সাথে ব্লগিং করি বলে মধ্য রাতে এমন প্রশ্নের জবাবেও শান্ত থাকতে হয়েছে।
  • আর্টিকেল ব্লগিং এর ক্ষেত্রে-২ঃ বাংলাদেশে অনেক নবীন ব্লগার রয়েছেন যারা অন্যের ব্লগের কনটেন্ট কপি করে নিজের ব্লগে চালিয়ে দিয়ে অনলাইন হতে আয় করার আশা করেন। আমি এমন একজন ব্লগার পেয়েছি যিনি আমার ব্লগের প্রায় সকল কনটেন্ট কপি করে নিজের ব্লগে চালিয়ে দিয়েছেন। আবার আমাকেই প্রশ্ন করছেন, ভাই আমার একটা ব্লগ আছে, সেই ব্লগ দিয়ে কিভাবে আয় করব দয়াকরে জানাবেন। আমি তখন তার ব্লগের লিংক দেওয়ার জন্য বলি। সে আমাকে লিংক দেয়ার পর ব্লগ চেক করি যে অবস্থা দেখি তাতে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ স্তব্দ হয়ে রইলাম। উনার এই কপিবাজ কাজের জন্য আমার কি জবাব দেওয়া উচিত ছিল আপনারাই জানাবেন। আবার আরেকজন ব্লগার পেয়েছি, যিনি বলেছেন ভাই আমি আপনার ব্লগের চিত্রা টেমপ্লেটটি আপনার কাছ থেকে ৮৫০ টাকা দিয়ে কিনে নেব। তারপর যদি আপনার ব্লগে আর্টিকেল কপি করে আমার ব্লগে শেয়ার করি তাহলে কি গুগল এ্যাডসেন্স পাব বা অনলাইন হতে কি আয় করতে পারব। এই প্রশ্নের উত্তরটাও আপনাদের কাছে রেখে দিলাম। 
  • YouTube আয়ের ক্ষেত্রেঃ ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন থেকে ভিডিও দেখার অত্যান্ত জনপ্রিয় একটা মাধ্যম সেটা বর্তমানে অজপাড়া গ্রাম থেকে শুরু করে সবাই জানে। তবে YouTube এর মাধ্যমে যে আয় করা যায় সেই বিষয় এখনো সবার কাছে বোধগম্য বা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে সম্প্রতি ইউটিউবে অনেক ভালমানের বাংলা টিউটোরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে এবং সহজে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকে বিশ্বাস করছে যে, অনলাইন হতে ইউটিউবের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। তবে এখনো সব বাংলাদেশী ইউটিউবারদের জন্য ইউটিউব মনিটাইজেশন সাপোর্ট হচ্ছে না বিধায় অনেক ধরনের প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। অনেকে বলেন ভাই অমুকের ইউটিউব চ্যানেলে দেখলাম লোকেশন বাংদেশ দেওয়া আছে কিন্তু গুগল এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন শো করছে, আমার চ্যানেল মনিটাইজেশন হচ্ছে না কেন? আবারও অনেকে বিভিন্ন রকম উল্ঠা পাল্ঠা প্রশ্ন করছেন যে, ভাই আমি যদি ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে কিছুটা পরিবর্তন করে আমার চ্যানেলে আপলোড করি তাহলে কি গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন করবে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর আমি নিজে না দিয়ে আপাতত আপনাদের কাছে রেখে দিচ্ছি। তবে আপনার একান্ত জানার প্রয়োজন হলে কমেন্ট করে আমাদের নিকট হতে জেনে নিতে পারেন।
  • গুগল এ্যাডসেন্স আয়ের ক্ষেত্রেঃ বাংলাদেশী ব্লগারদের জন্য গুগল এ্যাডসেন্স বিশাল বড় একটা বিষয়। পূর্বে অনেকে বাংলা ভাষায় ব্লগিং না করে গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য অন্যের ব্লগ হতে আর্টিকেল কপি করি ইংরেজী ভাষায় ব্লগিং করে গেছেন। তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল গুগল এ্যাডসেন্স হতে টাকা আয় করা। ব্লগিং করে খ্যাতি অর্জন করা বা নিজেকে অনলাইনে উপস্থাপন করার মত কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল না। অন্যের ব্লগের আর্টিকেল কপি করে কেউ আদৌ গুগল এ্যাডসেন্স পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না। যার কারণে বাংলায় ব্লগিং না করে ইংলিশ কপিবাজ ব্লগার গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন না পেয়ে এক বছরের মধ্যেই ব্লগিং মার্কেট থেকে ঝরে পড়ে গেছে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় এ্যাডসেন্স অনুমোদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে জন্য সম্প্রতি বাংলা আর্টিকেল কপি করার প্রবনতা আবারও ব্যাপাক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া কিছু সুবিধাবাদি ব্লগার রয়েছেন যারা ইংরেজী ব্লগ থেকে এ্যাডসেন্স অনুমোদন না পেয়ে এখন বাংলা ভাষায় ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন। এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করার কারনে ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার ব্লগ অধিক হাকে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সেই সাথে বাংলা ব্লগের কম্পিটিশনও বাড়তে থাকবে। যারা পূর্বে বাংলা আর্টিকেল কপি করে ভিজিটর পেয়েছেন তারা সেই সুবিধা অচিরেই পাবেন না। কাজেই এখন থেকে আপনি যে বিষয়ে ভাল জানেন সেটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেন। আরেকটা বিষয় না বল্লেই নয়, আপনি অযথাই অন্যের কনটেন্ট কপি করে গুগল এ্যাডসেন্স এর কাছে বাংলা ভাষাকে ছোট করবেন না।
  • এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রেঃ গুগল এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকে মনেকরেন যে, কয়েকজন মিলে গ্রুপিং করে বিভিন্ন কম্পিউটার থেকে আইপি এড্রেস পরিবর্তন করে বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করলে আয় বৃদ্ধি পাবে। বেশ কয়েকজন আমাকে ফোন করে এই বিষয়ে প্রশ্ন পর্যন্ত করেছিলেন। আপনি নিজেকে যতটা চালাক মনে করছেন গুগল তার চাইতেও তিনগুল চালাক থেকে কাউকে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেয়। এই কাজ করে নিজের কষ্টে অর্জিত এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান করতে যাবেন না। এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন হতে আয়ের কথা চিন্তা না করে নিয়মিতভাবে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করে যান। তাতেকরে ভিজিটর বাড়বে, ব্লগের র‌্যাংক বাড়বে এবং এ্যাডসেন্স আয়ও বাড়বে। শুধু শুধু কাজে মনোযোগ না দিয়ে টাকা কখন পাবেন, আয় কখন বৃদ্ধি পাবে এবং টাকা কিভাবে উত্তোলন করব এ সব বিষয় না ভেবে কাজ চালিয়ে যান। তবেই সফলতা আপনার হাতে ধরা দেবে।

ব্লগিং কি এবং কিভাবে শুরু করব?

  • ব্লগার বা ব্লগিং কিঃ এখনো বাংলাদেশে অনেক লোক রয়েছেন যারা ব্লগার বলতে ধর্ম বিরোধী ও নাস্তিক ব্যক্তিদের বুঝে থাকেন। অনেক অল্প শিক্ষিত লোক আছে যাদের ধর্মের ব্যাপারে খুব কঠোরপন্থি মনোভাব রয়েছে। তারা যদি শুনে আপনি একজন ব্লগার তাহলে আপনাকে বিভিন্ন খারাপ কথা বলতে কিংবা মারতেও দ্বিধাবোধ করবে না। যার জন্য আমি নিজেকে সবার সামনে ব্লগার হিসেবে পরিচয় দিতে সাহস পাই না। এই ধরনের মনোভাব থেকে বাংলাদেশের লোকজন বেরিয়ে আসতে পারবে কি না তা এখনো সন্দিহান। অথচ ব্লগার বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় লিখে থাকেন। যদি ঐ ব্যক্তি অনলাইনে না লিখে বই আকারে লিখতেন তাহলে তিনি লেখক হিসেবে গর্বের সাহিত বলতে পারতেন। সাধারণত ব্লগ বলতে অনলাইন ডায়রীকে বুঝানো হয়ে থাকে। কেউ যদি তার নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি অনলাইনে লিখে থাকেন তাহলে তিনিও একজন ব্লগার হিসেবে গন্য হবেন।
  • কিভাবে ব্লগিং শুরু করবঃ এটাও অত্যান্ত কমন একটি প্রশ্ন। আমি কিভাবে ব্লগিং শুরু করব, ওয়ার্ডপ্রেস নাকি গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগিং শুরু করব। অনেকে আবার বলবে গুগল ব্লগার ভালো না, এর চাইতে ওয়ার্ডপ্রেস অনেক ভালো। আপনি ব্লগিং সম্পর্কে ভালভাবে কিছুই জানেন না অথচ কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না। তবে আপনি যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালু করতে চান, তাহলে সেটা হবে আলাদা বিষয়। ব্যক্তিগতভাবে ব্লগিং করতে চাইলে আমি গুগল ব্লগার বেছে নেওয়ার জন্য বলব। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট ‍খুলতে চাইলে বা দীর্ঘ মেয়াদী প্লান থাকলে এবং আপনার ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে অভীজ্ঞতা থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে শুরু করবেন। আমরা ইতোপূর্বে আমাদের ব্লগে “গুগল ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস” শিরোনামে দুটি পোষ্ট শেয়ার করেছি। পোষ্ট দুটি পড়লে বিস্তারিত জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
  • কি বিষয়ে ব্লগিং করবঃ অনেকে বলে ভাই নতুন একটি ব্লগ খুলব ভাবছি কিন্তু কি কি বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করব সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। দয়াকরে করে কেউ কি জানাবেন যে, কোন টপিক নিয়ে কাজ শুরু করলে ভালো ট্রাফিক, গুগল এ্যাডসেন্স ও পর্যাপ্ত টাকা আয় করতে পারব। ঠিক এই ধরনের এক প্রশ্নের উত্তরে আমি একজনকে বলেছিলাম ভাই আপনাকে আমি যে কোন একটি বিষয় বল্লেই কি আপনি সেই বিষয়ে ব্লগিং চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনি কি সব বিষয়ে অভীজ্ঞতা সম্পন্ন লোক বা সর্ব জানতা ব্যক্তি। সেই ব্যক্তি উত্তরে আমাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় কথা শুনিয়েছিল। পরবর্তীতে সে বলেছিল পারলে কোন বিষয়ে সাজেস্ট করেন না পারলে বক বক বাধ দেন। পরে বাধ্য হয়ে বলেছিলাম ইন্সুরেন্স বিষয়ে লিখলে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পবেন এবং গুগল এ্যাডসেন্স এর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলির ক্লিক রেট অনেক বেশী। এই বিষয়ে ব্লগিং করলে আপনার দুটোই লাভ হবে। আপনি কি সেই বিষয়ে ব্লগিং করতে পারবেন? জবাবে সে দাঁত কেলিয়ে বলেছিল এই টপিক নিয়ে কাজ করা সম্ভব না অন্য বিষয় সাজেস্ট করেন। তখন সে নিজের ভূল নিজেই বুঝতে পেরেছিল। টপিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি আপনাদের বলব আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহ পান ও যে বিষয়ে আপনার পর্যাপ্ত অভীজ্ঞতা রয়েছে কেবলমাত্র সেই বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় ভিজিটর কম পেলেও কিছুটা দীর্ঘ সময় নিয়ে ব্লগিং করলে অবশ্যয় ভিজিটর ও সফলতা দুটোই পাবেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর ক্ষেত্রেঃ

  • ভাইয়া এসইও কিঃ এই বিষয়টা অধিকাংশ ব্লগারদের সামনে এলেই মনেকরে এটা বিশাল বড় একটা বিষয়। আমার পক্ষে ব্লগের বা ওয়েবসাইটের এসইও করা কোনভাবেই সম্ভব না। সাধারণ একটা বিষয়কে পাহাড় এক পাশ থেকে ঠেলে অন্য পাশে নিয়ে যাওয়ার মত কঠিন কাজে পরিনত করে দেয়। বাংলাদেশী অনলাইন মার্কেটারদের এসইও বিষয়ে যথ অজ্ঞতা দেখেছি অনলাইনে অন্য কোন বিষয়ে ততটা অজ্ঞতা দেখিনি। অনেকে সোজাসোজি প্রশ্ন করে বলেন যে, এসইও কি, কেন এসইও করতে হয় বা এসইও করলে কি লাভ হবে। আবার কিছু লোক মনেকরে শুধুমাত্র এসইও করলে ব্লগে ভালমানের আর্টিকেল না থাকলেও পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাওয়া যাবে। এই ধরনের চিন্তা ভাবনা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করা উচিত। এসইও এর ক্ষেত্রে আর্টিকেল হচ্ছে অল-ইন-অল। ভালমানের আর্টিকেল ছাড়া এসইও এর কথা চিন্তাই করা যায় না। 
  • আমার ব্লগটা এসইও করে দেবেনঃ আমার ব্লগের ভিজিটরদের কাছে এই প্রশ্নটা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়েগেছি। কিছু লোক সোজাসোজি বলবে যে, ভাই আমার ব্লগে এসইও করে প্রতিদিন দশ হাজার ভিজিটর এনে দিতে পারবেন কি না এবং এর জন্য আপনাকে কত টাকা দিতে হবে। আবার অনেকে প্রশ্ন করেন আপনাকে তিনশত টাকা দেব আমার ব্লগটা পূর্ণাঙ্গ এসইও করে দেবেন। এই দুটি প্রশ্নের উত্তর আমি ইচ্ছে করে আপনাদের দিতে চাইছি না। সম্ভব হলে আপনারা কমেন্টের মাধ্যমে সবাইকে উত্তরটা জানিয়ে দেবেন।
  • এসইও কোথা থেকে শিখতে পারবঃ সাধারণত যাদের শিখার আগ্রহ আছে তারাই এই প্রশ্নটি করে থাকেন। এই প্রশ্নের সঠিক সমাধান হবে আমার জানামতে পূর্ণাঙ্গভাবে এসইও শিখানোর মত ভালো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আদৌ খুব কম আছে। তবে আপনি যাচাই বাছাই করে মোটামোটি ভালমানের যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসইও এর বেসিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার প্রচন্ড আগ্রহ থাকলে ইন্টারনেট হতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কাজেই এটাকে কঠিন কাজ না ভেবে সহজভাবে নিয়ে শেখার চেষ্টা করলে একদিন আপনি একজন এসইও কনসালটেন্ট হয়ে বিভিন্ন আইটি কোম্পানির এসইও অপটিমাইজার হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
উপসংহারঃ বাংলাদেশের ব্লগিং এর বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে কিছু সমস্যার বিষয়ে আপনাদের সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই বিষয়গুলি ছাড়াও বাংলা কনটেন্ট পাবলিশারদের আরো অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে আমি অবিরত লিখে যেতে পারব। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে লিখে আপনাদের বিরক্তির কারণ হতে চাইছি না বিধায় আজকের মত এখানে বন্ধ করে দিলাম। আমার পোষ্ট থেকে যদি নূন্যতম কিছু জেনে থাকেন তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর যদি কোন ভূল বিষয় বর্ণনা করে থাকি সে বিষয়ে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার মতামত সাদরে নিয়ে ভবিষ্যতে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্।

৬ জানু, ২০১৮

অনলাইন মার্কেটিং, ব্লগিং ও অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে অর্গানিক ট্রাফিক ছাড়া কোন ভাবে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। ওয়েবসাইটকে পরিপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) না করে অর্গানিক ট্রাফিক পাওয়া কোন ভাবে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে গুগল অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আর যখন গুগল অর্গানিক ট্রাফিক পেয়ে যাবেন তখন সফলতা আপনার হাতে পেয়ে যাওয়াটা হবে সময়ের বিষয় মাত্র।
কিভাবে Google তাদের Search Results আপডেট করে?
সাধারণত গুগল প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর অন্তর সার্চ রেজাল্ট ও সার্চ র‌্যাংকিং আপডেট করে থাকে। কখনো কখনো বছরে ৪-৫ বার Search Results আপডেট করে থাকে। তখন দেখা যায় যে, আপডেট করার আগে যে সমস্ত ব্লগের পেজ গুগল সার্চ রেজাল্টে পাওয়া যেত সেগুলি এখন আর পাওয়া যচ্ছে না। অন্যদিকে আগে যে সকল ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টে পাওয়া যেত না সেগুলি আপডেট হওয়ার ফলে পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিবর্তন গুগল সার্চ রেজাল্ট আপডেট করার পর লক্ষ্য করা যায়। গুগল সার্চ রেজাল্ট আপডেট করার ফলে অনেক ওয়েবসাইট সফলতা থেকে ছিটকে পড়ে আবার অনেক ওয়েবসাই সফলতার প্রথম ধাপে উঠে আসে। এই পরিবর্তন কেন হয় ও কি কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কিভাবে গুগল একটি সাইট খুজে ও Crawls করে?

বর্তমানে ইন্টারনেট বিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন সচল ওয়েবসাইট ও ব্লগ রয়েছে। গুগল বট প্রতিনিয়ত সবগুলো ওয়েবসাইট ক্রল করে ওয়েবসাইটের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এলগরিদম অনুসারে সাজিয়ে রাখে। এ ক্ষেত্রে গুগল ক্রলার কোন প্রকার ভূল করে না বা ভূল করার কোন প্রকার সম্ভাবনা রাখে না। সাধারণত ওয়েবসাইট সার্চ ও ক্রল করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করে।

Analyze Indexing History:

অনেক সময় দেখা যায় দীর্ঘ দিন হয়েছে ব্লগে একটি নতুন পোষ্ট শেয়ার করা হয়েছে কিন্তু এখনো গুগল সার্চ রেজাল্টের পাতায় পোষ্টটি পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত গুগল বিভিন্ন কারনের একটি পোষ্ট ইনডেক্স করতে সময় নিতে পারে অথবা ইনডেক্স নাও করতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন কত দ্রুত একটি পোষ্ট ইনডেক্স করবে তা কিছুটা নির্ভর করে ব্লগের র‌্যাংক এর উপর। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করে নেয়। আপনার ওয়েবসাইটের পোষ্টগুলি ইনডেক্স হচ্ছে কি না সেটা জানতে চাইলে Google Webmaster Tools এর সাহায্য নিতে পারেন। গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস থেকে আপনার ইনডেক্স স্ট্যাটাস জানার পাশাপাশি দ্রুত ইনডেক্স করানোর জন্য কি প্রয়োজন সে বিষয়ে কিছু নির্দেশনা বা ধারনা পেয়ে যাবেন।

Google Indexing Factor:

আমার বিগত তিন বৎসরের ব্লগিং অভিজ্ঞতা আমি নিম্নলিখিত কারনগুলি খুজে বের করেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করে গুগল একটি পোষ্ট ইনডেক্স করে থাকে।
  • Domain Authority: ওয়েবসাইট বা ব্লগের Domain Authority ১০০ পয়েন্ট বা তার কাছাকাছি থাকলে গুগল সার্চ ইঞ্জিন একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হিসেবে গণ্য করে নেয়। এ ক্ষেত্রে ব্লগের পোষ্ট অতি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • Page Authority: কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগের Page Authority ১০০ পয়েন্ট বা তার কাছাকাছি থাকলে সে ক্ষেত্রেও গুগল সার্চ ইঞ্জিন একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হিসেবে গণ্য করে নেয়। এ ক্ষেত্রেও ব্লগের পোষ্ট অতি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • Regular Post Update: পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করার ক্ষেত্রে নিয়মিত আর্টিকেল শেয়ার করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, যারা ব্লগে নিয়মিত পোষ্ট শেয়ার করে তাদের ব্লগে গুগল বট নিয়মিত ভিজিট করে। এ ধরনের ব্লগের পোষ্ট খুব অল্প সময়ে ইনডেক্স হয়ে যায়।
  • Popularity of website: দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কারণ জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে ট্রাফিক বেশী থাকে। সার্চ ইঞ্জিনও জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের সাথে এক ধরনের পরিচিতি স্থাপন করে নেয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ যেমনি তার প্রিয় জিনিস ও ব্লগ নিয়মিত পড়ে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারও তার প্রিয় ওয়েবসাইট নিয়মিত ক্রল করে।
  • Backlinks: আপনার সদ্য শেয়ারা করা পোষ্টটি কোন ভালমানের ওয়েবসাইটের পোষ্টের সাথে লিংক করা থাকলে নুতন পোষ্টটি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ সার্চ ইঞ্জিন বট ভালমানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করে। এ ক্ষেত্রে ক্রলার সেই ওয়েবসাইটটি ক্রল করার সময় আপনার নতুন পোষ্ট পেয়ে গেলে সেখান থেকে লিংক থ্রো করে আপনার পোষ্টটিতে সরাসরি চলে আসবে। এ ক্ষেত্রে আপনার নুতন পোষ্টটিতে পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে দ্রুত ইনডেক্স হয়ে যাবে।

GoogleBot, Crawling ও Indexing কি?

আপনার ওয়েবসাইটকে কিভাবে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করবেন সে বিষয়ে জানার পূর্বে GoogleBot, Crawling ও Indexing বিষয়গুলি ভালভাবে জেনে নিতে হবে। কারণ এ বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারনা না থাকলে বুঝতে পারবেন যে, গুগল কিভাবে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে।
  • GoogleBot: গুগল বট হচ্ছে তথ্য সংগ্রহকারী সফটওয়ার। এই গুগল বট ব্যবহার করে গুগল বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের তথ্য ভান্ডারে মজুদ করে রাখে। এটি প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
  • Crawling: গুগল বট কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ করার পর প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের আর্টিকেল Crawl করে কোন ওয়েবসাইটে নতুন কনটেন্ট পেলে আর্টিকেল সম্পর্কে গুগল এর কাছে রিপোর্ট করে।
  • Indexing: আর্টিকেল Crawling করার পর গুগল বট সমুদয় কনটেন্টের গুনগত মান যাচাই বাছাই করতঃ আর্টিকেল ও ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি যাচাই করে ধারাবাহিকভাবে তথ্য ভান্ডারে Index করে রাখে। তখন সার্চ ইঞ্জিন সেই তথ্য ভান্ডারের সিরিয়াল অনুযায়ি ওয়েবসাইটের পোষ্ট গুগল সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শণ করে।
এখন আপনি নিজেই বুঝতে পারলেন যে, গুগল কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করতঃ ব্লগের দক্ষতা যাচাই করে সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করে। সম্পূর্ণ প্রসেসটাকে সংক্ষেপে এভাবে বলায় গুগল প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করার পর সেগুলির মান যাচাই করতঃ তাদের তথ্য ভান্ডারে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে রাখে। পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের বিভিন্ন পাতায় প্রদর্শন করে।

কিভাবে আপনার ব্লগ সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত Index করাবেন?

এ বিষয়ে আলোচনার পূর্বে আপনাকে ছোট একটি বিষয় বলে রাখছি যে, আপনার ব্লগটি যদি খুবই নতুন হয়ে থাকে তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হতে কিছুটা সময় নেবে। কারণ যে কোন নতুন জিনিস সম্পর্কে কারো কাছে পরিচিতি পেতে কিছু সময় দিতে হয়। হুট হাট করে কেউ কারো কাছে পরিচিত হতে পারে না। নিচের কাজগুলি করলে আপনার ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করতে পারবেন।
  • Google Webmaster Tools: এটি গুগলের ফ্রি এবং অত্যান্ত কার্যকরী একটি টুলস। আপনার ব্লগকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করতে চাইলে অবশ্যই একটি একাউন্ট করে নিবেন। তাছাড়া এই টুলস ব্যবহার করে আপনার ব্লগের বিভিন্ন Crawl, Index সহ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।
  • Create Sitemap: Google Webmaster Tools একাউন্ট তৈরি করার পর অবশ্যই আপনার ব্লগ সাবমিট করে নিবেন। এই সাইটম্যাপ এর মাধ্যমে গুগল আপনার ব্লগের কনটেন্টগুলি তাদের তথ্য ভান্ডারে সহজে পেয়ে যাবে। সাইটম্যাপ তৈরির বিষয়ে আমরা ইতোপূর্বে একটি বিস্তারিত পোষ্ট শেয়ার করেছি। আপনি ইচ্ছে করলে আমাদের পোষ্টটির সাহায্য নিতে পারেন।
  • Fetch It: এই অপশনটা Google Webmaster Tools এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই অপশন ব্যবহার করে আপনার ব্লগের পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করে নেওয়ার জন্য গুগল এর কাছে অনুরোধ জানাতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় মাত্র এক মিনিটে পোষ্ট ইনডেক্স করে গুগল সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
  • Google Analytics: গুগল Analytics আপনার ব্লগের কনটেন্ট সরাসরি সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসবে না। তবে আপনার ব্লগে কি পরিমানে ট্রাফিক কোন কোন উৎস হতে পাচ্ছেন ইত্যাদি বিষয়ে ধারনা নিয়ে ভবিষ্যতে কি করা উচিত সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কিভাবে SEO ব্লগকে সাহায্য করে?

অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন এসইও করে কি হবে ভাই? বর্তমানে অনেক সোসিয়াল মিডিয়া রয়েছে যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাওয়া যায়। আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি না। সোসিয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাবেন কিন্তু সেটা অর্গানিক ট্রাফিক নয়। সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনি যখন পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাবেন সেটা হবে অর্গানিক ট্রাফিক এবং সেই ট্রাফিকের মূল্য থাকবে সোসিয়াল মিডিয়ার ট্রাফিক এর চাইতে অনেক বেশী। তাছাড়া গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত রেভিনিউ এর জন্য অর্গানিক ট্রাফিক এর প্রয়োজন হয়। অর্গানিক ট্রাফিক প্রাপ্ত এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপন মূল্যও বেশী হয়ে থাকে।

উপসংহারঃ সব শেষে আবারও একটা কথাই বলব যে, আপনি যে ধরনের টেকনিক অবলম্বন করেন না কেন আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত ভালমানের আর্টিকেল থাকতে হবে। ভালমানের আর্টিকেল ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ব্লগের কনটেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে না। যার ফলে আপনার পোষ্ট সার্চ রেজোল্টের এলগরিদম তালিকার নিচের দিকে পড়ে থাকবে। আর তালিকার নিচের সারিতে থাকলে পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের ৪-৫ পাতায় অবস্থান নিতে পারবে না। পোষ্ট প্রথম পাতায় স্থান না পেলে সার্চ রেজাল্ট হতে কোন ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব হবে না।
 
Subscribe for all Updates

Subscribe Now

কপিরাইট © 2015- প্রযুক্তি ডট কম ™, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Powered by: