View AllEarnings

১০ জানু, ২০১৮

গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা যেটি গুগল নিজে পরিচালনা করছে। ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপ ব্যবহার করে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের যত উপায় আছে তার মধ্যে AdSense হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়। তারপরও সবার মনে কিছু প্রশ্ন জাগে যে, এটা কি আসলে সত্য বা সম্ভব? আমি কি সব সময় Google AdSense থেকে টাকা উপর্জন করতে পারবো? আমি কি ওখান থেকে ‍উপার্জিত টাকা দিয়ে সব কিছু চালিয়ে যেতে পারবো?
প্রশ্নের আলোকে গুগল AdSense সংক্রান্ত সকল সমস্যার সংক্ষিপ্ত সমাধান!
আমাদের ব্লগে ইতোপূর্বে গুগল এ্যাডসেন্স বিষয়ে অনেক পোষ্ট রয়েছে। তারপরও ফেইসবুক কমিউনিটি পেজে অনেকে বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট প্রশ্ন করে থাকেন। অনেক সময় কাজের ব্যস্ততায় ঐ সহজ প্রশ্নগুলির উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে হয়। সে জন্য আজ আমি সকল ছোট প্রশ্নগুলির উত্তর প্রশ্নভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সবার সমনে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করব।

পোষ্টটি শুরু করার পূর্বে আপনাদের একটি বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি যে, গুগল এ্যাডসেন্স গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখ হতে বাংলা ভাষা সাপোর্ট করছে। বিষয়টি যারা এখনো জানেন না তারা অবগত হয়ে তাদের বাংলা ব্লগের মাধ্যমে গুগল এ্যাডসেন্সর জন্য আবেদন করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, আমাদের প্রযুক্ত ডট কম ব্লগটিও বাংলা কনটেন্ট দিয়ে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে গুগল এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করছে।

গুগল এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বেসিক প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স কি?
  • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্স হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। যার মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রয়োজনীয় পন্যের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারেন। অন্যদিকে এ্যাডসেন্স পাবলিশাররা তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ গুগল এ্যাডসেন্স থেকে কি আয় করা সম্ভব?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ বাংলা ওয়েবসাইট থেকে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ আগে পাওয়া না গেলেও সম্প্রতি গুগল বাংলা ওয়েবসাইটে অনুমোদন দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমাদের ব্লগকে অনুসরণ করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদনের জন্য বাংলা ওয়েবসাইট ভাল নাকি ইংরেজী ওয়েবসাইট ভাল?
  • উত্তরঃ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দুটি ভাষা সমান। তবে বাংলা ওয়েবসাইটের চাইতে ইংরেজী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বেশী আয় করা যায়।
  • প্রশ্নঃ শুনলাম এশিয়া মহাদেশ থেকে এ্যাডসেন্স পাওয়া খুব কঠিন বিষয়?
  • উত্তরঃ এই তথ্যটি সঠিক নয়। একটি পরিপূর্ণ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্লগের মাধ্যমে যে কোন দেশ থেকে সহজে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করা সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ বাংলাদেশে নাকি ৬ মাসের পূর্বে এ্যাডসেন্স অনুমোদন করে না?
  • উত্তরঃ এটিও সঠিক নয়। তবে একটি ব্লগকে এ্যাডসেন্সের জন্য পরিপূর্ণ উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রায় ৬ মাসের অধিক সময় লেগে যায়। সে জন্য ব্লগের বয়স নূন্যতম ছয় মাস হওয়ার আগে এ্যাডসেন্সের আবেদন করতে অভিজ্ঞরা নিষেধ করেন। তবে এর আগে যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে ছয় মাসের পূর্বেই এ্যাডসেন্স পাওয়া সম্ভব।
  • প্রশ্নঃ আবেদন করার পূর্বে কমপক্ষে কতগুলো পোষ্ট থাকতে হবে?
  • উত্তরঃ ভালমানের আর্টিকেলের সমন্বয়ে কমপক্ষে ২৫/৩০ টি পোষ্ট রাখা প্রয়োজন।
  • প্রশ্নঃ প্রত্যেকটি পোষ্টের জন্য কি পরিমান আর্টিকেল হলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ প্রত্যেকটি পোষ্টে ৪০০/৫০০ ওয়ার্ড রাখাটা ভাল।
  • প্রশ্নঃ কপি করা আর্টিকেল দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়?
  • উত্তরঃ আদৌ কেউ অনুমোদন পায়নি এবং ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়!
  • প্রশ্নঃ কাষ্টম ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ আগে পাওয়া যেত কিন্তু সম্প্রতি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি টপ লেভেলের ডোমেন নিয়ে তার পর এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার স্বপক্ষে গুগল নিজেও পরামর্শ দিচ্ছে।

আবেদন করার পূর্বে করণীয় কি?

  • প্রশ্নঃ ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করলে ভাল নাকি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করলে ভাল হয়?
  • উত্তরঃ আপনি যেটি দিয়ে ব্লগিং করেন না কেন এ্যাসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব পাবে।
  • প্রশ্নঃ কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করব নাকি ডিফল্ট থিমস নিয়ে?
  • উত্তরঃ একটি ভালমানের কাষ্টম থিমস নিয়ে কাজ করাটাই উত্তম।
  • প্রশ্নঃ শুনেছি ব্লগস্পট দিয়ে ব্লগিং করলে নাকি ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না?
  • উত্তরঃ এটা ঠিক নয়। আপনার ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকলে ব্লগস্পট নিয়ে কাজ করে ভাল র‌্যাংক করা কোন ব্যাপারই না।
  • প্রশ্নঃ ডট কম ডোমেন ভাল নাকি ডট নেট হলে ভাল হয়?
  • উত্তরঃ আমি সবসময় ডট কম ডোমেন নেওয়ার পরামর্শ দেব।
  • প্রশ্নঃ কত অক্ষরের ডোমেন নেম হলে ভালো হয়?
  • উত্তরঃ পাঁচ অক্ষর থেকে শুরু করে পনের অক্ষরের মধ্যে রাখাটা ভাল।
  • প্রশ্নঃ কোন ধরনের টপিক নিয়ে কাজ করলে এ্যাডসেন্স দ্রুত অনুমোদন হবে?
  • উত্তরঃ গুগল সবসময় প্রযুক্তি বিষয় সংক্রান্ত ব্লগকে প্রধান্য দিয়ে থাকে?
  • প্রশ্নঃ নিস হিসেবে Blogspot টিউটোরিয়াল কেমন?
  • উত্তরঃ অবশ্যই ভাল। পাশাপাশি ওয়েব ডিজাইন এবং এসইও নিয়ে লিখতে পারলে দ্রুত এ্যাডসেন্স পাওয়ার আশা করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ এসইও করলে নাকি দ্রুত এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ সঠিকভাবে এসইও করা ব্লগকে এ্যাডসেন্স অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করে। কারণ প্রোপার এসইও করা ব্লগে সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
  • প্রশ্নঃ ব্লগে About Us, Contact, Privacy Policy রাখা কি বাধ্যতামূলক?
  • উত্তরঃ এগুলো আপনার ব্লগ সম্পর্কে পাঠকদের স্বচ্ছ ধারনা দেয়। কাজেই এই পেজগুলি রাখলে ভাল ফলাফল পাবেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্লগের এ পেজগুলি অনেক গুরুত্ব বহন করে।
  • প্রশ্নঃ নিউজ, ভিডিও এবং ফ্রি নেট বিষয়ে গুগল এ্যাডসেন্স  অনুমোদন হয় নাকি?
  • উত্তরঃ সার্চ ইঞ্জিনের কাছে এগুলোর গুরুত্ব খুবই কম। সে জন্য এই টপিক গুলিতে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হয় না বল্লেই চলে। তবে জনপ্রিয় করতে পারলে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • প্রশ্নঃ ইউনিক কনটেন্টের সাথে গুগল থেকে Image নিয়ে পাবলিশ করলে কোন সমস্যা হবে কি না?
  • উত্তরঃ অন্য ওয়েবসাইটের লগোযুক্ত ছবি ব্যবহার না করলে সমস্যা হবে না। তবে কেউ যদি তার ব্লগের ছবি সম্পর্কে রিপোর্ট করে, তাহলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • প্রশ্নঃ সাইটে পর্যাপ্ত ইউনিক আর্টিকেল রয়েছে কিন্তু ভিজিটর কম, এ ক্ষেত্রে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
  • উত্তরঃ পাওয়া যাবে, কারণ গুগল এ্যাডসেন্স সাইটের ট্রাফিককে খুব বেশী গুরুত্ব দেয় না। ভালমানের পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে।
  • প্রশ্নঃ ডট TK ডোমেন দিয়ে কি এ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে?
  • উত্তরঃ না।
  • প্রশ্নঃ এ্যাডসেন্সে আবেদন করার পূর্বে কি কি Check List তৈরি করা দরকার?
  • উত্তরঃ গুগল এ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই কিছু Check List তৈরি করা ভাল। যেমন-ব্লগের সকল পোস্ট ৮০-৯০ ভাগ ইউনিক কিনা এবং গুগল পলিসির ভিতরে আছে কিনা। ব্লগের সকল গুরুত্বপূর্ণ পেজ ঠিক আছে কিনা। ওয়েবসাইটে ২৫-৩০ টি পাষ্ট ঠিকমতো ইনডেক্স হচ্ছে কিনা। ব্লগের ডিজাইন এবং এসইও ফ্রেন্ডলি কিনা সেটা চেক করতে হবে। সাদা সিদে ন্যাভিগেশন এবং লেয়াউট এ সব দরকারি জিনিস রাখতে হবে। সার্চ ইঞ্জিনে কিছু Organic Keywords এ ভাল Rank করালে এক্সট্রা পায়রিটি পাওয়া যাবে। সবকিছু ঠিকমতো থাকলে অল্প দিনে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।

হোস্টেড ও নন-হোস্টেড একাউন্ট কি?

  • প্রশ্নঃ Hosted AdSense বলতে কি বুঝানো হয়?
  • উত্তরঃ গুগল ব্লগার, YouTube এবং AdMob দ্বারা ব্যবহৃত এ্যাডসেন্স হচ্ছে Hosted AdSense.
  • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense বলতে কি বুঝায়?
  • উত্তরঃ নিজস্ব সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট হচ্ছে Non Hosted AdSense.
  • প্রশ্নঃ Non Hosted AdSense এর জন্য Alexa rank কোন প্রভাব বিস্তার করে?
  • উত্তরঃ না।
  • প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে Non Hosted AdSense এর জন্য কোন Niche বেশী অনুমোদন হয়?
  • উত্তরঃ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে Smartphone Review, Education Result এবং Technology সাইট দিয়ে অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়।
  • প্রশ্নঃ Hosted ও Non Hosted AdSense এর মধ্যে পার্থক্য কি?
  • উত্তরঃ এই দুটির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে Hosted শুধুমাত্র গুগলের ব্লগার, YouTube এবং AdMob এ ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে নিজস্ব সাইটে Non Hosted AdSense সর্বোচ্চ ৫০০ টি Website এ ব্যাবহার করা যায়।
  • প্রশ্নঃ Hosted Account কি Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ করা যায়, গুগল পলিসি অনুসারে ব্লগ তৈরি করে আবেদন করে Hosted Account থেকে Non Hosted Account এ Upgrade করা যায়।

এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিবিধ প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ আমি কি গুগল AdSense এর জন্য Sub Domain ব্যবহার করতে পারি?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ পারেন, তবে আগে টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে অনুমোদন করাতে হবে, তারপর সাব ডোমেইন এ অ্যাডসেন্স ব্যাবহার করতে পারবেন ।
  • প্রশ্নঃ Troll সাইটে কি এ্যাডসেন্স অনুমোদন হবে এবং এ ক্ষেত্রে কি ধরনের আর্টিকেল প্রয়োজন?
  • উত্তরঃ যদি গুগলের নীতিমালা ভঙ্গ না করে, তবে ভালো মানের ২৫/৩০ টি পোস্ট দিয়ে অনুমোদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যে কোন প্রোডাক্ট বেইজ ও ইনফরমেটিভ ব্লগ তৈরি করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ ব্লগের বেশীরভাগ ভিজিটর Facebook থেকে আসলে কি AdSense অনুমোদন সম্ভব?
  • উত্তরঃ এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেবে। তবে ফেসবুকের ভিজিটরের চাইতে গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে আসা ভিজিটরের মূল্য বেশি। সে ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের গুরুত্ব দিতে হবে।
  • প্রশ্নঃ কিভাবে এ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে রক্ষা করব এবং আয় বৃদ্ধি করব?
  • উত্তরঃ অ্যাডসেন্স ব্লক হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এ্যাডসেন্সের পলিসি অনুসরণ করে ব্লগিং করতে হবে। আয় বৃদ্ধি করার জন্য ব্লগে ভিজিটর বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এ্যাডসেন্স CTR, CPC ও RPM রেট বৃদ্ধি করতে হবে।
  • প্রশ্নঃ ভালমানের আর্টিকেল মানে কি? ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন আর্টিকেলের কি কি গুন থাকা দরকার? আর্টিকেলের মান ভালো না খারাপ সেটা চেক করার কি কোন উপায় আছে?
  • উত্তরঃ আপাত দৃষ্টিতে ভালমানের আর্টিকেল বলতে ইউনিক ও গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলকে ‍বুঝায়? যে আর্টিকেল গুলির ডিমান্ড সর্বস্তরে রয়েছে, সেগুলিই হচ্ছে ভালমানের আর্টিকেল। Google Keyword Planner দিয়ে খুব সহজে আর্টিকেলের মান যাচাই-বাছাই করতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ আমার ব্লগে যদি ৫০ ভাগ ইউনিক পোষ্ট থাকে, তবে কি অ্যাডসেন্স পাওয়া যাবে? অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনটা বেশি জরুরি, ইউনিক পোস্ট  নাকি ভিজিটর?
  • উত্তরঃ এ ক্ষেত্রে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অ্যাডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে ভিজিটরের চাইতে ইউনিক পোষ্টকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
  • প্রশ্নঃ ব্লগের Privacy পেজ কিভাবে তৈরি করব? অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে নিলে কোন সমস্যা হবে কি না?
  • উত্তরঃ অনলাইনের বিভিন্ন টুল দিয়ে জেনারেট করে Privacy পেজ তৈরি করতে পারেন। তবে আপনার ব্লগের বিষয়ে সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছুটা পরিবর্তন করবেন। এ পদ্ধতীতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

এ্যাডসেন্স সংক্রান্ত বিষদ প্রশ্নঃ

  • প্রশ্নঃ আমার একটা ব্লগ আছে ব্লগার এ Domain এখনো Set করা হয়নি, কিছুদিন এর মধ্যে Domain Set করব। এখন পর্যন্ত ৫০ টা পোস্ট করা হয়েছে। সব পোস্ট ৮০% Unique. ব্লগে প্রতিদিন ১০০+ ভিজিটর আসে। ডোমেন Set করার কতদিন পর AdSense Apply করলে Approve পেতে পারি। আমার Content এর যদি কোনো Problem থাকে এবং আমি যদি সেটা একবার Apply করার পর বুজতে পারি এবং সেই Content গুলো Delete করে দিয়ে আবার Fresh কনটেন্ট পোস্ট করে পুনরায় Apply করি তাহলে কি Problem হবে কিংবা Approve হবে?
  • উত্তরঃ কোথায় ডোমেইন সেট করবেন? ব্লগারে? আমি বলবো না। নিজস্ব সাইট বানান। ডোমেইন সেট করলে এক মাস পরে এপ্লাই করে দেখুন। কনটেন্ট ভালো মানের হলে এপ্রুভ পেয়ে যাবেন। কপি পেস্ট মুক্ত ফ্রেশ কনটেন্ট। অবশ্যই গ্রামার, সেন্টেন্স এবং কতো % ইউনিক সেটা মাথায় রাখতে হবে, আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। ডিলেট করলে বিপদে পড়বেন। 404 not Found আসবে আর সাইটের Rank হারাবেন। কনটেন্ট আপডেট কিংবা রি – রাইট করলে ভালো হবে।
  • প্রশ্নঃ ভাই Adsense পেতে সাইটের বয়স কত লাগবে? কতগুলো পোষ্ট আর কি রকম এসইও করা লাগবে?
  • উত্তরঃ গুগল এর মেইন শর্ত হচ্ছে হাই কুয়ালিটি ভালো মানের কনটেন্ট এবং ১ টা টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে সাইট বানাতে হবে। তারপর সাইটে ৪০-৫০ দিন সময় নিয়ে ৪০-৫০ টা ইউনিক আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। সাইটে About, Privacy, Contact us & DMCA পেজ গুলো ঠিক মতো পাবলিশ করতে হবে। সাইটের সকল পোস্ট Google Webmaster এ সাবমিট করতে হবে। তারপর হালকা পাতলা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করুন। তারপর সাইটের বসয় ৫০-৬০ দিন হলে গুগল অ্যাডসেন্স এপ্লাই করুন। অ্যাডসেন্স এপ্রুভ হতে সময় লাগবে না।
  • প্রশ্নঃ Google Adsense এর টাকা কিভাবে উঠানো যায়?
  • উত্তরঃ ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের সবাই চেক দিয়ে টাকা ক্যাশ করাতাম। মাস খানিক সময় লাগতো টাকা ক্যাশ করতে। এখন EFT আছে, সরাসরি ৪-৫ দিনেই টাকা ব্যাংক এ চলে আসে। ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক দিয়ে টাকা উত্তোলন করা যায়।
  • প্রশ্নঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking কিভাবে অ্যাড করা যায়? সাধারণত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাড করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কি করতে হয়?
  • উত্তরঃ হোস্টেড অ্যাডসেন্সে অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট মেথড হিসেবে DBBL Mobile Banking হিসাবে অ্যাড করা যায়। Adsense & Domain Parking গ্রুপের কয়েক জন DBBL Mobile Banking দিয়ে টাকা তুলে। আমি কখনো ইউজ করি নাই। সম্ভবত Account No. এর জায়গায় Mobile Banking নাম্বার দিতে হয়। যারা ইউজ করে, তারা আরও বিস্তারিত বলতে পারবে।
  • প্রশ্নঃ অ্যাডসেন্স Approve পাওয়ার পর যদি আমি আমার সাইট এর Banner বা অন্য কোথাও সাইট এর Related Niche এর cpa বা অন্য কোন Product এর Promotion করি, তাহলে কি AdSense এর কোন Problem হবে?
  • উত্তরঃ Promotion/cpa তে যদি গুগল পলিসি ভঙ্গ করে এমন কিছু থাকে, তাহলে ব্যাবহার না করাই ভালো। তবে Amazon & Adsense একই সাইটে ব্যাবহার করা যায়। কোন সমস্যা হয় না।
  • প্রশ্নঃ আমার YouTube AdSense Account আছে। Non Hosted Ste এর জন্য কি আমি AdSense apply করতে পারব? এক্ষেত্রে কি কোন Problem এ পরতে হবে? YouTube and Website এর জন্য ২ টার Earning কি একসাথে দেখাবে, নাকি আলাদা আলাদা দেখাবে?
  • উত্তরঃ হ্যাঁ পারবেন। ঝামেলাযুক্ত কাজ। তবে এর চেয়ে নতুন নেওয়া অনেক সহজ । সব রিপোর্ট আলাদা দেখতে পারবেন।
  • প্রশ্নঃ বর্তমান ইউটিউব অ্যাডসেন্স কি ব্লগার এ ব্যবহার করা সম্ভব? যদি যায় তাহলে বর্তমানে কিভাবে করব?
  • উত্তরঃ সম্ভব না। ভালোমানের ব্লগ তৈরি করে Upgrade করে নিতে পারেন।
  • প্রশ্নঃ আমার যদি ইতোমধ্যেই একটি AdSense একাউন্ট থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে আমার ছোট ভাই আরেকটি একাউন্ট এপ্লাই করতে পারবে যদি বাড়ির এড্রেস একি হয়?
  • উত্তরঃ আলাদা সাইট, আলাদা কম্পিউটার আইপি, আলাদা ঠিকানা এবং আলাদা Payee Name দিয়ে সহজেই এপ্রুভ পাবেন। আশা করি কোন ঝামেলা হবে না।
নোটঃ এই পোষ্টের সকল আর্টিকেল আমার নিজের লেখা নয়। পোষ্টের ৪০% আর্টিকেল জনাব রুবেল এর বাংলা ব্লগ “রুবেল এসবিএস” থেকে নেওয়া। তবে আমার পোষ্টটি শুরুর দিকে উনার ব্লগ থেকে কনটেন্ট নেওয়ার টার্গেট ছিল না। পোষ্টের কিছু আর্টিকেল লিখার পর অনলাইনে সার্চ করতে গিয়ে উনার পোষ্টটি পেয়ে যাই। যদিও আর্টিকেল আমি নিজেই লিখতে পারতাম কিন্তু পোষ্টের বেশীরভাগ লেখা উনার লেখার সহিত মিলে যেত। সে জন্য পোষ্টের শেষের আর্টিকেল নিজে না লিখে উনার ব্লগ থেকে নিয়েছি। মিঃ রুবেল এর ব্লগ পোষ্টের আর্টিকেল কপি করার তিন দিন আগে উনার অনুমতি চেয়ে একটি মেইল পাঠিয়েছিলাম কিন্তু উনি আমাকে হ্যাঁ কিংবা না কোন উত্তর দেননি। আমার মনেহয় উনি দীর্ঘদিন যাবৎ ব্লগ থেকে দূরে আছেন বিধায় আমার মেইল পড়তে পারেননি। ভবিষ্যতে উনি আমার পোষ্টটির আর্টিকেলের Fair Usage Policy মানতে না চাইলে আমরা তার কনটেন্ট যে কোন সময় মুছে দেব।

৮ জানু, ২০১৮

আমার ব্লগে ইতোপূর্বে যতগুলো পোষ্ট রয়েছে তার সবগুলো লেখার মধ্যে কোন না কোন কাজের বিষয় রয়েছে। আজ আমি কাজের বাহিরে সম্পূর্ণ ব্যতীক্রম ধর্মী লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা বলতে পারেন এক ধরনের মজার বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আজকের আর্টিকেলটি লিখার পূর্বে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে, লেখাটি কারো কারো পক্ষে হতে পারে আবার কারো কারো বিপক্ষেও হতে পারে। কারণ এই বিষয়গুলি আমার তিন বৎসরের ব্লগিং অভীজ্ঞতা ও বাস্তবতা থেকে অর্জন করেছি। আজকের প্রত্যেকটা বিষয় আমার ক্লায়েন্ট ও ভিজিটরদের বিভিন্ন প্রশ্ন থেকে নিয়েছি। অনেকে আমার সাথে ফোনে ও ইমেইলে যোগাযোগ করে যে সকল প্রশ্ন করেছেন সে প্রশ্নের আলোকে আজকের পোষ্টটি সাজিয়েছি। সেই কারনে কেউ হয়ত বলতে পারেন যে, ভাই ব্লগিং ও অনলাইন আয়ের বিষয়ে অনেক কিছু জানতাম না বিধায় আপনার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম কিন্তু আপনি বিষয়টি সবার সামনে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করলেন। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই আমি আপনাদের কারো নাম প্রকাশ করব না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্লগিং এর অবস্থা ও কৌতুহলী কিছু বিষয় !
আমি পোষ্টের সকল বিষয় এক সাথে বর্ণনা না করে টপিক আকারে আলাদা আলাদাভাবে লিখব। এক সাথে করলে হয়ত সবগুলি বিষয় পড়ে আনন্দ পাবেন না। তবে টপিক আকারে উপস্থাপন করলে মজা নেওয়ার পাশাপাশি ব্লগিং এর বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা নিয়ে আপনার ভূলগুলি সংশোধন করে নিতে পারবেন।

অনলাইন আয়ের বিষয়ঃ

  • অনলাইনে কি আয় করা সম্ভবঃ এটি অত্যান্ত কমন একটি প্রশ্ন। যারা সদ্য ইন্টারনেটে পা রেখেছে তারা কিছু বাংলা ও ইংরেজী সাইট ঘেটে জানতে পারে যে, ফ্রি ল্যান্সিং ও ব্লগিং সহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনলাইন হতে আয় করা যায়, কিন্তু কিভাবে আয় করতে হবে বা কিভাবে শুরু করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা পায় না। যার জন্য মনে করে এগুলি ফালতু বিষয়। অনলাইন হচ্ছে ফেইসবুকিং ও ইউটিউব ভিডিও দেখার একটি মাধ্যম মাত্র। একজন আমার ব্লগে অনলাইনে আয়ের একটি পোষ্ট দেখে আমাকে সরাসরি ফোনের মাধ্যমে বলছেন, ভাই এটা কি ফালতু বিষয় শেয়ার করছেন। অনলাইনে আবার আয় করার যায় নাকি। অনলাইনের মাধ্যমে শুধুমাত্র বিভিন্ন জিনিস দেখা যায় কিংবা খোজা যায়। এখানে আয় আসবে কোথা থেকে। আমি তখন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেঠে দেই। কারণ উনাকে আমি উত্তর দিয়ে কোন কিছু বুঝাতে সক্ষম হব না। এই হচ্ছে বাংলাদেশী ব্লগারদের বেসিক জ্ঞানের অবস্থা।
  • আর্টিকেল ব্লগিং এর ক্ষেত্রে-১ঃ ব্লগিং এর ক্ষেত্রে আমি সবচাইতে বেশী যে প্রশ্নের সম্মুখিন হই সেটি হচ্ছে অনলাইন ইনকাম। আমি এমন অনেক লোক পেয়েছি যিনি আমাকে রাত দুইটার সময় মোবাইলে কল করে জিজ্ঞেস করেছেন, ভাই আমার একটা ব্লগ আছে যেটি সাত দিন হয় শুরু করেছি। আমার এই ব্লগ দিয়ে কিভাবে অনলাইন হতে ইনকাম করব। এত রাতে যদি কেউ আপনাকে কল করে ঘুম ভাঙ্গিয়ে এই প্রশ্ন করে তাহলে আপনি এই প্রশ্নের উত্তরে কি বলবেন? এমন বেকুফি প্রশ্নের জন্য তাকে খাটি বাংলা ভাষায় কিছু গালিগালাজ করার জন্য বলবেন। তবে আন্তরিকতার সাথে ব্লগিং করি বলে মধ্য রাতে এমন প্রশ্নের জবাবেও শান্ত থাকতে হয়েছে।
  • আর্টিকেল ব্লগিং এর ক্ষেত্রে-২ঃ বাংলাদেশে অনেক নবীন ব্লগার রয়েছেন যারা অন্যের ব্লগের কনটেন্ট কপি করে নিজের ব্লগে চালিয়ে দিয়ে অনলাইন হতে আয় করার আশা করেন। আমি এমন একজন ব্লগার পেয়েছি যিনি আমার ব্লগের প্রায় সকল কনটেন্ট কপি করে নিজের ব্লগে চালিয়ে দিয়েছেন। আবার আমাকেই প্রশ্ন করছেন, ভাই আমার একটা ব্লগ আছে, সেই ব্লগ দিয়ে কিভাবে আয় করব দয়াকরে জানাবেন। আমি তখন তার ব্লগের লিংক দেওয়ার জন্য বলি। সে আমাকে লিংক দেয়ার পর ব্লগ চেক করি যে অবস্থা দেখি তাতে অবাক হয়ে কিছুক্ষণ স্তব্দ হয়ে রইলাম। উনার এই কপিবাজ কাজের জন্য আমার কি জবাব দেওয়া উচিত ছিল আপনারাই জানাবেন। আবার আরেকজন ব্লগার পেয়েছি, যিনি বলেছেন ভাই আমি আপনার ব্লগের চিত্রা টেমপ্লেটটি আপনার কাছ থেকে ৮৫০ টাকা দিয়ে কিনে নেব। তারপর যদি আপনার ব্লগে আর্টিকেল কপি করে আমার ব্লগে শেয়ার করি তাহলে কি গুগল এ্যাডসেন্স পাব বা অনলাইন হতে কি আয় করতে পারব। এই প্রশ্নের উত্তরটাও আপনাদের কাছে রেখে দিলাম। 
  • YouTube আয়ের ক্ষেত্রেঃ ইউটিউব হচ্ছে অনলাইন থেকে ভিডিও দেখার অত্যান্ত জনপ্রিয় একটা মাধ্যম সেটা বর্তমানে অজপাড়া গ্রাম থেকে শুরু করে সবাই জানে। তবে YouTube এর মাধ্যমে যে আয় করা যায় সেই বিষয় এখনো সবার কাছে বোধগম্য বা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে সম্প্রতি ইউটিউবে অনেক ভালমানের বাংলা টিউটোরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে এবং সহজে এ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে বলে অনেকে বিশ্বাস করছে যে, অনলাইন হতে ইউটিউবের মাধ্যমে ইনকাম করা যায়। তবে এখনো সব বাংলাদেশী ইউটিউবারদের জন্য ইউটিউব মনিটাইজেশন সাপোর্ট হচ্ছে না বিধায় অনেক ধরনের প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। অনেকে বলেন ভাই অমুকের ইউটিউব চ্যানেলে দেখলাম লোকেশন বাংদেশ দেওয়া আছে কিন্তু গুগল এ্যাডসেন্স এর বিজ্ঞাপন শো করছে, আমার চ্যানেল মনিটাইজেশন হচ্ছে না কেন? আবারও অনেকে বিভিন্ন রকম উল্ঠা পাল্ঠা প্রশ্ন করছেন যে, ভাই আমি যদি ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোড করে কিছুটা পরিবর্তন করে আমার চ্যানেলে আপলোড করি তাহলে কি গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন করবে। এই প্রশ্নগুলির উত্তর আমি নিজে না দিয়ে আপাতত আপনাদের কাছে রেখে দিচ্ছি। তবে আপনার একান্ত জানার প্রয়োজন হলে কমেন্ট করে আমাদের নিকট হতে জেনে নিতে পারেন।
  • গুগল এ্যাডসেন্স আয়ের ক্ষেত্রেঃ বাংলাদেশী ব্লগারদের জন্য গুগল এ্যাডসেন্স বিশাল বড় একটা বিষয়। পূর্বে অনেকে বাংলা ভাষায় ব্লগিং না করে গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য অন্যের ব্লগ হতে আর্টিকেল কপি করি ইংরেজী ভাষায় ব্লগিং করে গেছেন। তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল গুগল এ্যাডসেন্স হতে টাকা আয় করা। ব্লগিং করে খ্যাতি অর্জন করা বা নিজেকে অনলাইনে উপস্থাপন করার মত কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল না। অন্যের ব্লগের আর্টিকেল কপি করে কেউ আদৌ গুগল এ্যাডসেন্স পায়নি এবং ভবিষ্যতেও পাবে না। যার কারণে বাংলায় ব্লগিং না করে ইংলিশ কপিবাজ ব্লগার গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন না পেয়ে এক বছরের মধ্যেই ব্লগিং মার্কেট থেকে ঝরে পড়ে গেছে। বর্তমানে বাংলা ভাষায় এ্যাডসেন্স অনুমোদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সে জন্য সম্প্রতি বাংলা আর্টিকেল কপি করার প্রবনতা আবারও ব্যাপাক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া কিছু সুবিধাবাদি ব্লগার রয়েছেন যারা ইংরেজী ব্লগ থেকে এ্যাডসেন্স অনুমোদন না পেয়ে এখন বাংলা ভাষায় ব্লগিং শুরু করে দিয়েছেন। এ্যাডসেন্স বাংলা ভাষা সাপোর্ট করার কারনে ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার ব্লগ অধিক হাকে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সেই সাথে বাংলা ব্লগের কম্পিটিশনও বাড়তে থাকবে। যারা পূর্বে বাংলা আর্টিকেল কপি করে ভিজিটর পেয়েছেন তারা সেই সুবিধা অচিরেই পাবেন না। কাজেই এখন থেকে আপনি যে বিষয়ে ভাল জানেন সেটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেন। আরেকটা বিষয় না বল্লেই নয়, আপনি অযথাই অন্যের কনটেন্ট কপি করে গুগল এ্যাডসেন্স এর কাছে বাংলা ভাষাকে ছোট করবেন না।
  • এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রেঃ গুগল এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকে মনেকরেন যে, কয়েকজন মিলে গ্রুপিং করে বিভিন্ন কম্পিউটার থেকে আইপি এড্রেস পরিবর্তন করে বিজ্ঞাপনের উপর ক্লিক করলে আয় বৃদ্ধি পাবে। বেশ কয়েকজন আমাকে ফোন করে এই বিষয়ে প্রশ্ন পর্যন্ত করেছিলেন। আপনি নিজেকে যতটা চালাক মনে করছেন গুগল তার চাইতেও তিনগুল চালাক থেকে কাউকে গুগল এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেয়। এই কাজ করে নিজের কষ্টে অর্জিত এ্যাডসেন্স একাউন্ট ব্যান করতে যাবেন না। এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন হতে আয়ের কথা চিন্তা না করে নিয়মিতভাবে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করে যান। তাতেকরে ভিজিটর বাড়বে, ব্লগের র‌্যাংক বাড়বে এবং এ্যাডসেন্স আয়ও বাড়বে। শুধু শুধু কাজে মনোযোগ না দিয়ে টাকা কখন পাবেন, আয় কখন বৃদ্ধি পাবে এবং টাকা কিভাবে উত্তোলন করব এ সব বিষয় না ভেবে কাজ চালিয়ে যান। তবেই সফলতা আপনার হাতে ধরা দেবে।

ব্লগিং কি এবং কিভাবে শুরু করব?

  • ব্লগার বা ব্লগিং কিঃ এখনো বাংলাদেশে অনেক লোক রয়েছেন যারা ব্লগার বলতে ধর্ম বিরোধী ও নাস্তিক ব্যক্তিদের বুঝে থাকেন। অনেক অল্প শিক্ষিত লোক আছে যাদের ধর্মের ব্যাপারে খুব কঠোরপন্থি মনোভাব রয়েছে। তারা যদি শুনে আপনি একজন ব্লগার তাহলে আপনাকে বিভিন্ন খারাপ কথা বলতে কিংবা মারতেও দ্বিধাবোধ করবে না। যার জন্য আমি নিজেকে সবার সামনে ব্লগার হিসেবে পরিচয় দিতে সাহস পাই না। এই ধরনের মনোভাব থেকে বাংলাদেশের লোকজন বেরিয়ে আসতে পারবে কি না তা এখনো সন্দিহান। অথচ ব্লগার বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় লিখে থাকেন। যদি ঐ ব্যক্তি অনলাইনে না লিখে বই আকারে লিখতেন তাহলে তিনি লেখক হিসেবে গর্বের সাহিত বলতে পারতেন। সাধারণত ব্লগ বলতে অনলাইন ডায়রীকে বুঝানো হয়ে থাকে। কেউ যদি তার নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি অনলাইনে লিখে থাকেন তাহলে তিনিও একজন ব্লগার হিসেবে গন্য হবেন।
  • কিভাবে ব্লগিং শুরু করবঃ এটাও অত্যান্ত কমন একটি প্রশ্ন। আমি কিভাবে ব্লগিং শুরু করব, ওয়ার্ডপ্রেস নাকি গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগিং শুরু করব। অনেকে আবার বলবে গুগল ব্লগার ভালো না, এর চাইতে ওয়ার্ডপ্রেস অনেক ভালো। আপনি ব্লগিং সম্পর্কে ভালভাবে কিছুই জানেন না অথচ কোন প্লাটফর্ম ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না। তবে আপনি যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট বা ব্লগ চালু করতে চান, তাহলে সেটা হবে আলাদা বিষয়। ব্যক্তিগতভাবে ব্লগিং করতে চাইলে আমি গুগল ব্লগার বেছে নেওয়ার জন্য বলব। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট ‍খুলতে চাইলে বা দীর্ঘ মেয়াদী প্লান থাকলে এবং আপনার ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে অভীজ্ঞতা থাকলে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে শুরু করবেন। আমরা ইতোপূর্বে আমাদের ব্লগে “গুগল ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস” শিরোনামে দুটি পোষ্ট শেয়ার করেছি। পোষ্ট দুটি পড়লে বিস্তারিত জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
  • কি বিষয়ে ব্লগিং করবঃ অনেকে বলে ভাই নতুন একটি ব্লগ খুলব ভাবছি কিন্তু কি কি বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করব সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। দয়াকরে করে কেউ কি জানাবেন যে, কোন টপিক নিয়ে কাজ শুরু করলে ভালো ট্রাফিক, গুগল এ্যাডসেন্স ও পর্যাপ্ত টাকা আয় করতে পারব। ঠিক এই ধরনের এক প্রশ্নের উত্তরে আমি একজনকে বলেছিলাম ভাই আপনাকে আমি যে কোন একটি বিষয় বল্লেই কি আপনি সেই বিষয়ে ব্লগিং চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনি কি সব বিষয়ে অভীজ্ঞতা সম্পন্ন লোক বা সর্ব জানতা ব্যক্তি। সেই ব্যক্তি উত্তরে আমাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় কথা শুনিয়েছিল। পরবর্তীতে সে বলেছিল পারলে কোন বিষয়ে সাজেস্ট করেন না পারলে বক বক বাধ দেন। পরে বাধ্য হয়ে বলেছিলাম ইন্সুরেন্স বিষয়ে লিখলে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পবেন এবং গুগল এ্যাডসেন্স এর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলির ক্লিক রেট অনেক বেশী। এই বিষয়ে ব্লগিং করলে আপনার দুটোই লাভ হবে। আপনি কি সেই বিষয়ে ব্লগিং করতে পারবেন? জবাবে সে দাঁত কেলিয়ে বলেছিল এই টপিক নিয়ে কাজ করা সম্ভব না অন্য বিষয় সাজেস্ট করেন। তখন সে নিজের ভূল নিজেই বুঝতে পেরেছিল। টপিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি আপনাদের বলব আপনি যে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহ পান ও যে বিষয়ে আপনার পর্যাপ্ত অভীজ্ঞতা রয়েছে কেবলমাত্র সেই বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় ভিজিটর কম পেলেও কিছুটা দীর্ঘ সময় নিয়ে ব্লগিং করলে অবশ্যয় ভিজিটর ও সফলতা দুটোই পাবেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এর ক্ষেত্রেঃ

  • ভাইয়া এসইও কিঃ এই বিষয়টা অধিকাংশ ব্লগারদের সামনে এলেই মনেকরে এটা বিশাল বড় একটা বিষয়। আমার পক্ষে ব্লগের বা ওয়েবসাইটের এসইও করা কোনভাবেই সম্ভব না। সাধারণ একটা বিষয়কে পাহাড় এক পাশ থেকে ঠেলে অন্য পাশে নিয়ে যাওয়ার মত কঠিন কাজে পরিনত করে দেয়। বাংলাদেশী অনলাইন মার্কেটারদের এসইও বিষয়ে যথ অজ্ঞতা দেখেছি অনলাইনে অন্য কোন বিষয়ে ততটা অজ্ঞতা দেখিনি। অনেকে সোজাসোজি প্রশ্ন করে বলেন যে, এসইও কি, কেন এসইও করতে হয় বা এসইও করলে কি লাভ হবে। আবার কিছু লোক মনেকরে শুধুমাত্র এসইও করলে ব্লগে ভালমানের আর্টিকেল না থাকলেও পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাওয়া যাবে। এই ধরনের চিন্তা ভাবনা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করা উচিত। এসইও এর ক্ষেত্রে আর্টিকেল হচ্ছে অল-ইন-অল। ভালমানের আর্টিকেল ছাড়া এসইও এর কথা চিন্তাই করা যায় না। 
  • আমার ব্লগটা এসইও করে দেবেনঃ আমার ব্লগের ভিজিটরদের কাছে এই প্রশ্নটা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়েগেছি। কিছু লোক সোজাসোজি বলবে যে, ভাই আমার ব্লগে এসইও করে প্রতিদিন দশ হাজার ভিজিটর এনে দিতে পারবেন কি না এবং এর জন্য আপনাকে কত টাকা দিতে হবে। আবার অনেকে প্রশ্ন করেন আপনাকে তিনশত টাকা দেব আমার ব্লগটা পূর্ণাঙ্গ এসইও করে দেবেন। এই দুটি প্রশ্নের উত্তর আমি ইচ্ছে করে আপনাদের দিতে চাইছি না। সম্ভব হলে আপনারা কমেন্টের মাধ্যমে সবাইকে উত্তরটা জানিয়ে দেবেন।
  • এসইও কোথা থেকে শিখতে পারবঃ সাধারণত যাদের শিখার আগ্রহ আছে তারাই এই প্রশ্নটি করে থাকেন। এই প্রশ্নের সঠিক সমাধান হবে আমার জানামতে পূর্ণাঙ্গভাবে এসইও শিখানোর মত ভালো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আদৌ খুব কম আছে। তবে আপনি যাচাই বাছাই করে মোটামোটি ভালমানের যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে এসইও এর বেসিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনার প্রচন্ড আগ্রহ থাকলে ইন্টারনেট হতে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসইও সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কাজেই এটাকে কঠিন কাজ না ভেবে সহজভাবে নিয়ে শেখার চেষ্টা করলে একদিন আপনি একজন এসইও কনসালটেন্ট হয়ে বিভিন্ন আইটি কোম্পানির এসইও অপটিমাইজার হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
উপসংহারঃ বাংলাদেশের ব্লগিং এর বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে কিছু সমস্যার বিষয়ে আপনাদের সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এই বিষয়গুলি ছাড়াও বাংলা কনটেন্ট পাবলিশারদের আরো অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে আমি অবিরত লিখে যেতে পারব। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে লিখে আপনাদের বিরক্তির কারণ হতে চাইছি না বিধায় আজকের মত এখানে বন্ধ করে দিলাম। আমার পোষ্ট থেকে যদি নূন্যতম কিছু জেনে থাকেন তবে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর যদি কোন ভূল বিষয় বর্ণনা করে থাকি সে বিষয়ে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনার মতামত সাদরে নিয়ে ভবিষ্যতে সংশোধনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্।

৬ জানু, ২০১৮

অনলাইন মার্কেটিং, ব্লগিং ও অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে অর্গানিক ট্রাফিক ছাড়া কোন ভাবে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। ওয়েবসাইটকে পরিপূর্ণ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) না করে অর্গানিক ট্রাফিক পাওয়া কোন ভাবে সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে গুগল অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। আর যখন গুগল অর্গানিক ট্রাফিক পেয়ে যাবেন তখন সফলতা আপনার হাতে পেয়ে যাওয়াটা হবে সময়ের বিষয় মাত্র।
কিভাবে Google তাদের Search Results আপডেট করে?
সাধারণত গুগল প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর অন্তর সার্চ রেজাল্ট ও সার্চ র‌্যাংকিং আপডেট করে থাকে। কখনো কখনো বছরে ৪-৫ বার Search Results আপডেট করে থাকে। তখন দেখা যায় যে, আপডেট করার আগে যে সমস্ত ব্লগের পেজ গুগল সার্চ রেজাল্টে পাওয়া যেত সেগুলি এখন আর পাওয়া যচ্ছে না। অন্যদিকে আগে যে সকল ওয়েবসাইট সার্চ রেজাল্টে পাওয়া যেত না সেগুলি আপডেট হওয়ার ফলে পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের পরিবর্তন গুগল সার্চ রেজাল্ট আপডেট করার পর লক্ষ্য করা যায়। গুগল সার্চ রেজাল্ট আপডেট করার ফলে অনেক ওয়েবসাইট সফলতা থেকে ছিটকে পড়ে আবার অনেক ওয়েবসাই সফলতার প্রথম ধাপে উঠে আসে। এই পরিবর্তন কেন হয় ও কি কি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কিভাবে গুগল একটি সাইট খুজে ও Crawls করে?

বর্তমানে ইন্টারনেট বিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন সচল ওয়েবসাইট ও ব্লগ রয়েছে। গুগল বট প্রতিনিয়ত সবগুলো ওয়েবসাইট ক্রল করে ওয়েবসাইটের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এলগরিদম অনুসারে সাজিয়ে রাখে। এ ক্ষেত্রে গুগল ক্রলার কোন প্রকার ভূল করে না বা ভূল করার কোন প্রকার সম্ভাবনা রাখে না। সাধারণত ওয়েবসাইট সার্চ ও ক্রল করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করে।

Analyze Indexing History:

অনেক সময় দেখা যায় দীর্ঘ দিন হয়েছে ব্লগে একটি নতুন পোষ্ট শেয়ার করা হয়েছে কিন্তু এখনো গুগল সার্চ রেজাল্টের পাতায় পোষ্টটি পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণত গুগল বিভিন্ন কারনের একটি পোষ্ট ইনডেক্স করতে সময় নিতে পারে অথবা ইনডেক্স নাও করতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন কত দ্রুত একটি পোষ্ট ইনডেক্স করবে তা কিছুটা নির্ভর করে ব্লগের র‌্যাংক এর উপর। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হলে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করে নেয়। আপনার ওয়েবসাইটের পোষ্টগুলি ইনডেক্স হচ্ছে কি না সেটা জানতে চাইলে Google Webmaster Tools এর সাহায্য নিতে পারেন। গুগল ওয়েবমাস্টার টুলস থেকে আপনার ইনডেক্স স্ট্যাটাস জানার পাশাপাশি দ্রুত ইনডেক্স করানোর জন্য কি প্রয়োজন সে বিষয়ে কিছু নির্দেশনা বা ধারনা পেয়ে যাবেন।

Google Indexing Factor:

আমার বিগত তিন বৎসরের ব্লগিং অভিজ্ঞতা আমি নিম্নলিখিত কারনগুলি খুজে বের করেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি বিবেচনা করে গুগল একটি পোষ্ট ইনডেক্স করে থাকে।
  • Domain Authority: ওয়েবসাইট বা ব্লগের Domain Authority ১০০ পয়েন্ট বা তার কাছাকাছি থাকলে গুগল সার্চ ইঞ্জিন একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হিসেবে গণ্য করে নেয়। এ ক্ষেত্রে ব্লগের পোষ্ট অতি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • Page Authority: কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগের Page Authority ১০০ পয়েন্ট বা তার কাছাকাছি থাকলে সে ক্ষেত্রেও গুগল সার্চ ইঞ্জিন একটি ওয়েবসাইটের র‌্যাংক ভাল হিসেবে গণ্য করে নেয়। এ ক্ষেত্রেও ব্লগের পোষ্ট অতি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • Regular Post Update: পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করার ক্ষেত্রে নিয়মিত আর্টিকেল শেয়ার করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, যারা ব্লগে নিয়মিত পোষ্ট শেয়ার করে তাদের ব্লগে গুগল বট নিয়মিত ভিজিট করে। এ ধরনের ব্লগের পোষ্ট খুব অল্প সময়ে ইনডেক্স হয়ে যায়।
  • Popularity of website: দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কারণ জনপ্রিয় ওয়েবসাইটগুলিতে স্বাভাবিক নিয়মে ট্রাফিক বেশী থাকে। সার্চ ইঞ্জিনও জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের সাথে এক ধরনের পরিচিতি স্থাপন করে নেয়। এ ক্ষেত্রে মানুষ যেমনি তার প্রিয় জিনিস ও ব্লগ নিয়মিত পড়ে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারও তার প্রিয় ওয়েবসাইট নিয়মিত ক্রল করে।
  • Backlinks: আপনার সদ্য শেয়ারা করা পোষ্টটি কোন ভালমানের ওয়েবসাইটের পোষ্টের সাথে লিংক করা থাকলে নুতন পোষ্টটি দ্রুত ইনডেক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ সার্চ ইঞ্জিন বট ভালমানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করে। এ ক্ষেত্রে ক্রলার সেই ওয়েবসাইটটি ক্রল করার সময় আপনার নতুন পোষ্ট পেয়ে গেলে সেখান থেকে লিংক থ্রো করে আপনার পোষ্টটিতে সরাসরি চলে আসবে। এ ক্ষেত্রে আপনার নুতন পোষ্টটিতে পর্যাপ্ত কনটেন্ট থাকলে দ্রুত ইনডেক্স হয়ে যাবে।

GoogleBot, Crawling ও Indexing কি?

আপনার ওয়েবসাইটকে কিভাবে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করবেন সে বিষয়ে জানার পূর্বে GoogleBot, Crawling ও Indexing বিষয়গুলি ভালভাবে জেনে নিতে হবে। কারণ এ বিষয়ে পরিপূর্ণ ধারনা না থাকলে বুঝতে পারবেন যে, গুগল কিভাবে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে।
  • GoogleBot: গুগল বট হচ্ছে তথ্য সংগ্রহকারী সফটওয়ার। এই গুগল বট ব্যবহার করে গুগল বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের তথ্য ভান্ডারে মজুদ করে রাখে। এটি প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
  • Crawling: গুগল বট কর্তৃক তথ্য সংগ্রহ করার পর প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের আর্টিকেল Crawl করে কোন ওয়েবসাইটে নতুন কনটেন্ট পেলে আর্টিকেল সম্পর্কে গুগল এর কাছে রিপোর্ট করে।
  • Indexing: আর্টিকেল Crawling করার পর গুগল বট সমুদয় কনটেন্টের গুনগত মান যাচাই বাছাই করতঃ আর্টিকেল ও ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি যাচাই করে ধারাবাহিকভাবে তথ্য ভান্ডারে Index করে রাখে। তখন সার্চ ইঞ্জিন সেই তথ্য ভান্ডারের সিরিয়াল অনুযায়ি ওয়েবসাইটের পোষ্ট গুগল সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শণ করে।
এখন আপনি নিজেই বুঝতে পারলেন যে, গুগল কিভাবে তথ্য সংগ্রহ করতঃ ব্লগের দক্ষতা যাচাই করে সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করে। সম্পূর্ণ প্রসেসটাকে সংক্ষেপে এভাবে বলায় গুগল প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করার পর সেগুলির মান যাচাই করতঃ তাদের তথ্য ভান্ডারে ধারাবাহিকভাবে সাজিয়ে রাখে। পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের বিভিন্ন পাতায় প্রদর্শন করে।

কিভাবে আপনার ব্লগ সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত Index করাবেন?

এ বিষয়ে আলোচনার পূর্বে আপনাকে ছোট একটি বিষয় বলে রাখছি যে, আপনার ব্লগটি যদি খুবই নতুন হয়ে থাকে তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হতে কিছুটা সময় নেবে। কারণ যে কোন নতুন জিনিস সম্পর্কে কারো কাছে পরিচিতি পেতে কিছু সময় দিতে হয়। হুট হাট করে কেউ কারো কাছে পরিচিত হতে পারে না। নিচের কাজগুলি করলে আপনার ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করতে পারবেন।
  • Google Webmaster Tools: এটি গুগলের ফ্রি এবং অত্যান্ত কার্যকরী একটি টুলস। আপনার ব্লগকে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে দ্রুত ইনডেক্স করতে চাইলে অবশ্যই একটি একাউন্ট করে নিবেন। তাছাড়া এই টুলস ব্যবহার করে আপনার ব্লগের বিভিন্ন Crawl, Index সহ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।
  • Create Sitemap: Google Webmaster Tools একাউন্ট তৈরি করার পর অবশ্যই আপনার ব্লগ সাবমিট করে নিবেন। এই সাইটম্যাপ এর মাধ্যমে গুগল আপনার ব্লগের কনটেন্টগুলি তাদের তথ্য ভান্ডারে সহজে পেয়ে যাবে। সাইটম্যাপ তৈরির বিষয়ে আমরা ইতোপূর্বে একটি বিস্তারিত পোষ্ট শেয়ার করেছি। আপনি ইচ্ছে করলে আমাদের পোষ্টটির সাহায্য নিতে পারেন।
  • Fetch It: এই অপশনটা Google Webmaster Tools এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই অপশন ব্যবহার করে আপনার ব্লগের পোষ্ট দ্রুত ইনডেক্স করে নেওয়ার জন্য গুগল এর কাছে অনুরোধ জানাতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় মাত্র এক মিনিটে পোষ্ট ইনডেক্স করে গুগল সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসা সম্ভব হয়।
  • Google Analytics: গুগল Analytics আপনার ব্লগের কনটেন্ট সরাসরি সার্চ রেজাল্টে নিয়ে আসবে না। তবে আপনার ব্লগে কি পরিমানে ট্রাফিক কোন কোন উৎস হতে পাচ্ছেন ইত্যাদি বিষয়ে ধারনা নিয়ে ভবিষ্যতে কি করা উচিত সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

কিভাবে SEO ব্লগকে সাহায্য করে?

অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন এসইও করে কি হবে ভাই? বর্তমানে অনেক সোসিয়াল মিডিয়া রয়েছে যার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাওয়া যায়। আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি না। সোসিয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনি পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাবেন কিন্তু সেটা অর্গানিক ট্রাফিক নয়। সার্চ ইঞ্জিন থেকে আপনি যখন পর্যাপ্ত ট্রাফিক পাবেন সেটা হবে অর্গানিক ট্রাফিক এবং সেই ট্রাফিকের মূল্য থাকবে সোসিয়াল মিডিয়ার ট্রাফিক এর চাইতে অনেক বেশী। তাছাড়া গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীদের পর্যাপ্ত রেভিনিউ এর জন্য অর্গানিক ট্রাফিক এর প্রয়োজন হয়। অর্গানিক ট্রাফিক প্রাপ্ত এ্যাডসেন্স ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপন মূল্যও বেশী হয়ে থাকে।

উপসংহারঃ সব শেষে আবারও একটা কথাই বলব যে, আপনি যে ধরনের টেকনিক অবলম্বন করেন না কেন আপনার ব্লগে পর্যাপ্ত ভালমানের আর্টিকেল থাকতে হবে। ভালমানের আর্টিকেল ছাড়া সার্চ ইঞ্জিন বট আপনার ব্লগের কনটেন্ট যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে না। যার ফলে আপনার পোষ্ট সার্চ রেজোল্টের এলগরিদম তালিকার নিচের দিকে পড়ে থাকবে। আর তালিকার নিচের সারিতে থাকলে পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্ট পেজের ৪-৫ পাতায় অবস্থান নিতে পারবে না। পোষ্ট প্রথম পাতায় স্থান না পেলে সার্চ রেজাল্ট হতে কোন ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব হবে না।

৪ জানু, ২০১৮

একটি ব্লগকে পূর্ণাঙ্গ প্রফেশনাল রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের বাহিরেও কিছু জিনিস করতে হয়। গুগল ব্লগারের ক্ষেত্রে Privacy Policy টা হচ্ছে সে রকম একটি বিষয়। ব্লগস্পট ব্লগের ক্ষেত্রে প্রাইভেসি পলিসি খুব বেশী প্রয়োজনীয় বা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে যারা গুগল এ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করতে চাইছেন তারা অবশ্যই এ্যাডসেন্সের আবেদন করার পূর্বে ব্লগের জন্য একটি সুন্দর ও গঠনমূলক প্রাইভেসি পলিসি পেজ তৈরি করে নিবেন। কারণ এ্যাডসেন্স অনুমোদন করার সময় গুগল এ্যাডসেন্স টিম ব্লগের প্রাইভেসি পলিসি পেজ ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার পর এ্যাডসেন্স অনুমোদন দেয়।
কিভাবে Blogspot ব্লগের Privacy Policy পেজ তৈরি করবেন?
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের একটি সুনির্দিষ্ঠ প্রাইভেসি পলিসি থাকে। এই পলিসি অনুসারে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হয়ে থাকে। সুনির্দিষ্ট পলিসি ছাড়া কোন কোম্পানি গ্রাহকের কাছে গ্রহনযোগ্যতা পায় না। ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের বিষয়টা সে রকম না হলেও মোটামোটি কাছাকাছি। আপনার ব্লগটি হয়ত আজ সবার কাছে পরিচিত নয় বিধায় প্রাইভেসি পলিসির প্রয়োজন হচ্ছে না, কিন্তু যখন সবার কাছে পরিচিত হবে তখন অবশ্যই একটি সুন্দর প্রাইভেসি পলিসি এর প্রয়োজন হবে। কারণ পলিসি ছাড়া কারো সাইট সর্বমহলে বিশ্বস্ততা ও গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না। তাছাড়া যত বড় বড় ওয়েবসাইট রয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই সুনির্দিষ্ট পলিসি রয়েছে।

প্রাইভেসি পলিসি কি?

প্রাইভেসি পলিসি এর বাংলা অর্থ হচ্ছে গোপনীয়তা নীতি। সাধারণ অর্থে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোম্পানি পরিচালনার সামগ্রীর নীতিকে বুঝানো হয়ে থাকে। ওয়েবসাইট বা ব্লগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিয়ম ব্যতীত আরো কিছু বিষয় থাকে। আপনার ব্লগের পাঠকের তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করছেন, কিভাবে সংগ্রহিত তথ্য ব্যবহার করছেন, সংগ্রহিত তথ্য কার কাছে দিচ্ছেন, পাঠকদের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়কে বুঝানো হয়। প্রাইভেসি পলিসি পেজের মাধ্যমে আপনার পাঠকদের নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে অবগত করতে পারেন।
  • আপনার ব্লগের ভিজিটরদের কি কি তথ্য সংগ্রহ করছেন?
  • কিভাবে পাঠকদের তথ্য সংগ্রহ করছেন?
  • কেন ভিজিটরদের তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন?
  • আপনি অন্যদের ব্লগের পন্য প্রমোট করেন কি না?
  • সর্বোপরি আপনার ব্লগের কি ধরনের আদর্শ রয়েছে?

প্রাইভেসি পলিসি পেজে কি কি থাকবে?

  • কি ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছেনঃ এখানে আপনি পাঠকদের সামনে তুলে ধরবেন যে, যখন কেউ আপনার ব্লগে ভিজিট করে তখন আপনি কি তথ্য সংগ্রহ করে রাখছেন। এতেকরে পাঠক আপনার ব্লগের তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতী জেনে সে পুনরায় ব্লগে ভিজিট করবে কি না সেটা নিশ্চিত হতে পারবে।
  • Log Data: বর্তমানে ইন্টারনেট ব্রাউজারগুলির মাধ্যমে ওয়েবসাইট ভিজিট করার পর ভিজিটরের আইপি এড্রেস এবং কোন ধরনের ব্রাউজার থেকে ভিজিট করছে ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য মজুদ করে রাখে। আপনি এ ধরনের সংগ্রহিত তথ্য মজুদ রাখছেন কি না সে বিষয়ে পাঠকদের জানাতে পারেন।
  • Cookies: Cookies হচ্ছে ছোট ছোট ফাইল, যা ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে ভিজিটরদের কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে সাইট বা পরিষেবা প্রদানকারীরা স্থানান্তর করে। European Union (EU) এর নিয়মানুসারে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ভিজিটকৃত ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার জন্য Cookies ব্যবহার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগে Cookies ব্যবহার করছেন কি না সেটা পাঠকদের জানাতে পারেন।
  • সংগ্রহিত তথ্য নিরাপদ রাখেন কি নাঃ আপনি পাঠকদের যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন সেটা কোন ব্যক্তি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠকের অনুমতি ছাড়া হস্থান্তর করছেন কি না সে বিষয়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে পারেন।
  • তৃতীয় পক্ষের লিংক শেয়ারঃ আপনার ব্লগের ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ব্যবসায়ের প্রয়োজনে অন্য কোন ওয়েবাসইটের লিংক আপনার ব্লগে শেয়ার করছেন কি না? যদি শেয়ার করে থাকেন তাহলে কেন বা কি উদ্দেশ্যে শেয়ার করছেন সে সম্পর্কে পাঠকদের অবহিত করতে পারেন।
  • সংগ্রহিত তথ্য রিসার্চ করেন কি নাঃ আপনার ব্লগ থেকে পাঠকদের যে তথ্যগুলি সংগ্রহ করছেন সেটা আপনি যাচাই বাছাই করে পাঠকদের মূল্যায়ন, সহায়তা, পরামর্শ প্রদান বা আপনার ব্লগের কোন সংশোধন, পরিবর্তন, সংযোজন ও পরিবর্ধন করেন কি না তাও পাঠকদের জানাতে পারেন।
  • শিশু সুরক্ষাঃ অনলাইনে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে খুবই কঠোর প্রন্থা অবলম্বন করে। আপনি যে ধরনের আর্টিকেল শেয়ার করে থাকেন, সেটি শিশুদের উপযোগী কি না সেটা পরিষ্কারভাবে পলিসিতে উল্লেখ করে রাখবেন। কারণ শিশুদের মানুষিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হবে এমন কিছু শেয়ার করে থাকলে আপনার ব্লগে সেটা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে রাখবেন। সে ক্ষেত্রে আপনি আগেই লিখে রাখবেন যে, আপনার ব্লগে শিশুদের উপস্থিতি সম্পূর্ণ নিষেধ। তা না হলে আপনি যে কোন ধরনের আইনি জঠিলতায় পড়তে পারেন।
  • বিবিধ বিষয়ঃ এ ছাড়া আপনার ব্লগের যদি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কোন গোপনীয়তা থেকে থাকে সেগুলি সম্পর্কে পাঠকদের সংক্ষেপে ধারনা দিতে পারেন।

ব্লগস্পট ব্লগের প্রাইভেসি পলিসিঃ

যারা গুগল ব্লগার ব্লগ ব্যবহার করছেন তাদের ক্ষেত্রে প্রাইভেসি পলিসিটা খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ যারা গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করেন তারা গুগল এর প্রাইভেসি পলিসি ও Service Agreement মেনে ব্লগিং করেন। এ ক্ষেত্রে আপনি কোন ধরনের পর্ণগ্রাফি, হ্যাকিং, ক্রাকিং অর্থাৎ এক কথায় নিয়ম বহির্ভূত কোন কিছুই করতে পারেন না। কারণ গুগল এর নিয়ম না মেনে ব্লগিং করলে গুগল আপনার ব্লগ যে কোন সময় ডিলিট করে দেওয়ার অধিকার রাখে। তারপরও যারা ব্লগকে ভালভাবে ফুঠিয়ে তুলতে চান তারা অবশ্যই একটি পলিসি পেজ সুন্দরভাবে তৈরি করে নিবেন। এটা পাঠকদের কাছে আপনার ব্লগের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।

গুগল এ্যাডসেন্স পলিসিঃ

আপনি যদি গুগল এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেন তাহলে এ্যাডসেন্সের পলিসিগুলি মেনেই করতে হবে। যখন আপনি প্রথম এ্যাডসেন্স একাউন্টে লগইন করবেন তখন আপনাকে বলবে আপনি এই নিয়মগুলি মেনে আবেদন করছেন। এ ক্ষেত্রে আপনি নিয়মগুলি না মেনে এ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আপনার ব্লগে গুগল এ্যাডসেন্স ব্যবহার করে থাকলে এ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপন ব্যবহারের পলিসি সম্পর্কে আপনার ব্লগের প্রাইভেসি পলিসি পেজের মাধ্যমে ভিজিটরদের জানাতে পারেন। এ ছাড়াও আপনি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে থাকলে সেটি সম্পর্কে পলিসি পেজে তুলে ধরতে পারেন।

Email Subscription পলিসিঃ

ব্লগার ব্লগের ক্ষেত্রে ডিফল্টভাবে Email Subscription এর একটি উইজেট রয়েছে। আপনি যদি এই উইজেটটি ব্যবহার করে আপনার ব্লগটি সাবস্ক্রাইব করার অপশন রেখে থাকেন, সে ক্ষেত্রে সাবস্ক্রাইবারদের ইমেইল এড্রেস ও তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করে ব্যবহার করছেন সেটি সম্পর্কে পাঠকদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেবেন। তাহলে যে কেউ আপনার ব্লগের পলিসি জেনে সাবস্ক্রাইব করবে কি না নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

কিভাবে ব্লগার ব্লগে Privacy Policy পেজ তৈরি করবেন?

  • প্রথমে আপনার কাঙ্খিত ব্লগে লগইন করতে হবে।
  • তারপর ব্লগার ড্যাশবোর্ড হতে Pages এ ক্লিক করে একটি পেজ তৈরি করে নিতে পারেন।
  • তারপর পেজের নাম Privacy Policy দিয়ে পেজের ভীতরে বিস্তারিত লিখবেন।
  • পেজের কমেন্ট করার অপশন অবশ্যই বন্ধ করে রাখবেন।
  • প্রফেশনাল Look দেওয়ার জন্য ব্লগের সাইডবার হাইড করে রাখতে পারেন।
সর্বশেষ পরামর্শঃ আপনি যদি বাংলায় আর্টিকেল পাবলিশ করে থাকেন তাহলে প্রাইভেসি পলিসি পেজটা অবশ্যই বাংলা তৈরি করবেন। অধিকাংশ বাংলা ব্লগে দেখা যায় যে, তাদের ব্লগের সকল কনটেন্ট বাংলা অথচ শুধুমাত্র প্রাইভেসি পলিসি পেজটা Auto Generate  করে ইংরেজীতে করে রেখেছে। বাংলা প্রাইভেসি পলিসি পজ তৈরি করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্লগের প্রাইভেসি পলিসি পেজটি অনুসরণ করতে পারেন। তবে আপনি ইংলিশে ব্লগিং করে থাকলে ভালমানের ব্লগগুলিকে অনুসরণ করতঃ আমাদের আজকের পোষ্টটি মেনে তৈরি করতে পারেন। যদি নিজে প্রাইভেসি পলিসি লিখতে সক্ষম না হন, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই লিংক থেকে আপনার ব্লগের সকল তথ্য পুরন করে একটি পলিসি পেজ তৈরি করে নিতে পারেন।

২ জানু, ২০১৮

ব্লগার কিংবা ওয়েবমাষ্টার যতক্ষন পর্যন্ত তার ব্লগের পোষ্টগুলি গুগল সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় শো করাতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত ব্লগে পর্যাপ্ত অর্গানিক ট্রাফিক পাবে না। অনলাইন মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে অর্গানিক ট্রাফিক ছাড়া কোন ভাবে সফলতার ধারপ্রান্তে পৌছা সম্ভব নয়। গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে যথাযথভাবে অপটিমাইজ করতে পারলে কেবলমাত্র সার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় অবস্থান নেওয়া সম্ভব হবে। যখন একটি ব্লগের বেশীরভাগ পোষ্ট সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় শো করবে তখন ভিজিটর দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
কিভাবে Google এর প্রথম পাতায় পোষ্ট Show করাবেন?
আজ আমি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে ৯০% এর বেশী লোক গুগল সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ইন্টারনেটে কোন কিছু খুজে থাকে। সে জন্য আপনি যথাযথভাবে এসইও করে গুগল সাার্চ রেজাল্টের প্রথম পাতায় আপনার ব্লগের পোষ্ট শো করাতে পারলে সার্চ ইঞ্জিন হতে পর্যাপ্ত ভিজিটর পেয়ে ব্লগের ভাল র‌্যাংকিং করতে পারবেন।

স্থানীয় কীওয়ার্ড খুজাঃ

আপনার ব্লগটি যদি বাংলায় হয়ে থাকে কিংবা যে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা স্থানীয় বিষয়ে আর্টিকেল শেয়ার করে থাকেন তাহলে আপনাকে ঐ দেশ ও এলাকার লোকজন কী ধরনের কীওয়ার্ড ব্যবহারে করে ইন্টারনেটে সার্চ করছে সে বিষয়টি খুজে বের করতে হবে। কারণ গুগল বর্তমানে Local বিষয় নিয়ে লিখা ওয়েবসাইটগুলিকে সহজে সনাক্ত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি স্থানীয় কীওয়ার্ড অপটিমাইজ না করে ব্লগি করেন তাহলে গুগল আপনার ব্লগের পোষ্ট কোন দেশে বেশী গুরুত্ব দেবে সেটা বুঝতে পারবে না। যার ফলে সারা বিশ্বব্যাপী প্রদর্শন করতে গিয়ে আপনার টার্গেটেড দেশ বা স্থানটি বাদ পড়ে যাবে। এ বিষয়টি করার জন্য গুগল ওয়েমাষ্টার টুলস এ আপনার ব্লগটির টার্গেটেড দেশ সিলেক্ট করে দেবেন। তাহলে সেই দেশের লোকজন যখন সার্চ করবে তখন গুগল আপনার ব্লগটি সেই দেশের সার্চের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দেবে। 

এ কাজটি করার জন্য আপনি আরো কিছু বিষয় যুক্ত করতে পারলে গুগল আপনার ব্লগটির লোকেশন সহজে সনাক্ত করে নিতে পারবে। গুগল ম্যাপ এ আপনার ব্লগের Url, নাম, ঠিকানা ও ফোন নাম্বার যুক্ত করার মাধ্যমে আপনার ব্লগের অবস্থান সম্পর্কে গুগলকে জানিয়ে দিতে পারেন। গুগল ম্যাপে যুক্ত করা ঠিকানাটা Google My Business হতে ভেরিফাই করে নিতে পারলে লোকাল সার্চের ক্ষেত্রে আরো সুবিধা নিতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক ব্লগের গঠনঃ

আপনি যদি সমগ্র বিশ্বকে টার্গেট করে ব্লগিং করেন তাহলে ওয়েবসাইট সম্পর্কে ভিজিটর ও সার্চ ইঞ্জিনকে পরিষ্কার ধারনা দেওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেজ রাখতে হবে। এই পেজগুলি না থাকলে আপনার ব্লগের গুরুত্ব সার্চ ইঞ্জিনের কাছে কমে যাবে। তবে যারা লোকাল বা বাংলা ভাষায় ব্লগিং করেন তাদের ক্ষেত্রে এই পেজগুলি না থাকলেও কোন সমস্যা হবে না। তবে পেজগুলি রাখলে বেশ ভালো হয়।
  • About Us: এটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পেজ। এখানে আপনার ব্লগ এবং আপনাদের সম্পর্কে বিস্তারিত পরিষ্কারভাবে তুলে ধরবেন।
  • Contact Us: ভিজিটর যাথে আপনাদের সাথে যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ রাখতে পারে সে জন্য একটি যোগাযোগ ফরম রাখবেন। এটি আপনার ব্লগের পাঠকদের সাথে কমিউনিকেশন তৈরি করবে।
  • Privacy Policy: আপনাদের ব্লগের গোপনীয় নীতি মেনে কিভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতঃ সেটা কাজে লাগান বা ব্যবহার করেন সে বিষয়ে তুলে ধরবেন।
  • Term and Conditions: অনেক ব্লগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্ত আরূপ করা হয়ে থাকে। আপনার ব্লগের এ রকম কিছু থাকলে সেটিও ব্লগে উল্লেখ করে রাখবেন।
  • Sitemap: একটি ব্লগের পূর্ণাঙ্গ ধারনা সংক্ষেপে তুলে ধরার জন্য সাইটম্যাপ তৈরি করা হয়। এটি আপনার ব্লগকে সার্চ ইঞ্জিন এর কাছে সংক্ষেপে উপস্থাপন করে ব্লগ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেবে।
উপরের পেজগুলি নুতনদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। তবে যখন আপনার ব্লগটির পরিচিতি বাড়তে থাকবে তখন নিজে এই পেজগুলির অভাব অনুধাবন করতে পারবেন। কাজেই যে কোন ধরনের ব্লগিং এর ক্ষেত্রে ব্লগ তৈরির প্রথম পর্যায়ে পেজগুলি রেখে দেওয়াটাই উত্তম হবে।

মান সম্পন্ন ব্লগ তৈরিঃ

মান সম্মত বলতে ব্লগের সার্বিক অনেক বিষয়কে নির্দেশ করে। একটি ব্লগ শুরু করার পর ব্লগের গঠন আকর্ষণীয় রাখার পাশাপাশি আরো অনেক বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। নিচে মানসম্মত ব্লগের প্রথমিক কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
  • Original Content: ব্লগে ট্রাফিক পাওয়ার ক্ষেত্রে ভালমানের Original Content এর বিকল্প কিছুই নেই। আপনার ব্লগে যত ভালমানের ইউনিক কনটেন্ট শেয়ার করতে পারবেন সার্চ ইঞ্জিন তত বেশী আপনার ব্লগের অনুকুলে থাকবে। বিশেষ করে গুগল সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ইউনিক কনটেন্ট এর মূল্য এতটাই বেশী যে, বর্ণনা করে কোনভাবে শেষ করা যাবে না। তাছাড়া ভালমানের কনটেন্ট ছাড়া এসইও করে কোন ফলাফল পাওয়া যাবে না। আমি প্রায় সময় আমার ক্লায়েন্টদের এসইও বিষয়ে কাজ করে দেই। কাজ নেওয়ার পূর্বে আমার ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে জেনে নেই তার ব্লগে ভালমানের কনটেন্ট আছে কি না। ভালমানের কনটেন্ট ছাড়া আমি কখন এসইও করার কাজ হাতে নেই না। কারণ অরিজিনাল কনটেন্ট ছাড়া আমি কোনভাবেই সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক এনে দিতে পারব না।
  • Navigation: ওয়েবসাইটের ডিজাইন সুন্দর রাখার পাশাপাশি ব্লগের নেভিগেশন সুন্দর জায়গায় রাখার চেষ্টা করবেন। ভিজিটরের দৃষ্টি সহজে আকর্ষণ করবে না এমন জায়গায় নেভিগেশন রাখলে পাঠক আপনার ব্লগে ভিজিট করে বেশীক্ষণ না থেকে ব্লগ ত্যাগ করে চলে যাবে।
  • Breadcrumbs: এটির মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন ও ভিজিটর উভয়ে আপনার ব্লগ পোষ্টের ক্যাটাগরি এবং লোকেশন সহ আরো অনেক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারনা নিতে পারবে। বিশেষ করে এই Breadcrumbs লিংকগুলির মাধ্যমে এক ধরনের Internal Backlinks তৈরির সুবিধা নেওয়া যায়।
  • Search Box: যে ব্লগে সার্চ বক্স নেই সেই ব্লগ গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ সার্চ বক্স এমন জায়গাতে রাখবেন যাতে খুব সহজে ভিজিটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

Responsive Design:

Responsive Web Designs বর্তমান সময়ে একটি প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনে পরিনত হয়েছে। এক সময় ছিল যখন কোন ব্লগ/ওয়েবসাইট Responsive ছিল না, কিন্তু সমপ্রতি সকলেই তাদের ব্লগকে Responsive Designs আকারে গঠন করে নিচ্ছেন। টপ লেভেলের ব্লগ ডিজাইনাররা বিভিন্ন ছোট বড় ডিভাইসের উপযোগী করার জন্য তাদের ব্লগগুলি Responsive করে নিয়েছেন। তাছাড়া যে কোন Responsive ব্লগের স্পীড অন্যান্য নরমাল ব্লগের চাইতে অনেকগুন বেশী হয়ে থাকে। এর সব চাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে যে, এ ধরনের ব্লগের কনটেন্ট জুম না করে পরিষ্কারভাবে পড়া যায়। আপনি যদি ব্লগকে এখনো Responsive না করে থাকেন তাহলে ধরে নেন আপনার এজান্তে ছোট ডিভাইসের ভিজিটরদের হারাচ্ছেন। তাছাড়া গুগল অনেক আগেই সবার ব্লগ Responsive করে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে।

Optimize for Mobile:

Responsive Web Designs এর পরে আসবে মোবাইল অপটিমাইজ করার বিষয়টি। Responsive Designs শুধুমাত্র সকল ধরনের ডিভাইসের সাথে সমাঞ্জস্য রেখে পরিষ্কারভাবে দেখার উপযোগী করে থাকে। আর মোবাইল অপটিমাইজ করার পর ছোট ছোট মোবাইলগুলি ওয়েবসাইটকে দ্রুত লোড নিতে সক্ষম হয়। যারা গুগল ব্লগার দিয়ে ব্লগিং করছেন তারা ব্লগের বিভিন্ন Conditional Tags ব্যবহার করে ব্লগকে পরিপূর্ণ মোবাইল অপটিমাইজ করতে পারেন। বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিন মোবাইল সার্চ এর জন্য আলাদা গুগল মোবাইল বট তৈরি করেছে। গুগল মোবাইল বট ওয়েবসাইট মোবাইল উপযোগী কি না তা যাচাই বাছাই করার পর গুগল মোবাইল সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।

AMP অপটিমাইজেশনঃ

AMP HTML হচ্ছে গুগল কোম্পানি সমর্থিত একটি Open Source Project, যা একটি ওয়েবসাইটের Content-কে যে কোন ধরনের মোবাইল ডিভাইসে দ্রুত লোড নিতে সাহায্য করে। আরো ভালভাবে বলা যায়, একটি মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে AMP যে কোন ওয়েবসাইটকে একটি দ্রুতগামী বুলেটের মত লোড নিতে সক্ষম। বর্তমানে গুগল সার্চ ইঞ্জিন মোবাইল র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে AMP কে খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। তবে এই সুবিধা নেওয়ার জন্য আপনার ব্লগে শুধুমাত্র Google AdSense ব্যতীত প্রায় সকল ধরনের বিজ্ঞাপন’সহ Third Party Scripts ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

Schema Markup ব্যবহারঃ

এটি হচ্ছে এক ধরনের (Semantic Vocabulary) কোড, যা সার্চ ইঞ্জিনের আকর্ষন বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে ব্লগ ও ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ গুলি সাধারণত HTML ও Scripts আকারে হয়ে থাকে। এই Schema Markup ট্যাগগুলি ব্যবহার করে আপনার ব্লগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনদের সহজভাবে পরিষ্কার ধারনা দিতে পারবেন। যার ফলে আপনার ব্লগটি সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পাতায় আসার সম্ভাবনা আরও অনেকগুন বেড়ে যাবে। আমরা ইতোপূর্বে আমাদের ব্লগে এ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনটি পোষ্ট শেয়ার করেছি। আপনি ইচ্ছে করলে আমাদের ব্লগের পোষ্টগুলি দেখে নিতে পারেন।

ভালমানের Image ব্যবহারঃ

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে Image Search নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে সার্চ করলে যে কোন ধরনের ছবি মুহুর্তে চোখের সামনে হাজির হয়। আপনি যদি আপনার ব্লগে ভালমানের সুন্দর ছবি আপলোড করে ছবিতে Alta Tag ব্যবহার করে Image সার্চে আনতে পারেন, তাহলে সেখান থেকে অনেক ট্রাফিক পাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে কম সাইজের ভালমানের নিজস্ব ছবি আপলোড করার চেষ্টা করবেন। অন্যের ব্লগে ছবি ব্যবহার করলেও নরমালি কোন সমস্যা হবে না। তবে কেউ যদি অভিযোগ আনে তাহলে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যবহার করতে চাইলে অন্তত কিছুটা পরিবর্তন করে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। তাহলে পাইরেসির অভিযোগে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

উপসংহারঃ আমি আবারও বলব Proper সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ছাড়া কেউ সার্চ ইঞ্জিন হতে ট্রাফিক পেতে সক্ষম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না। আপনি যদি ব্লগে পর্যাপ্ত অর্গানিক ট্রাফিক এর আশা করেন তাহলে অবশ্যই সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সকল নিয়ম অনুসরণ করে ব্লগিং করতে হবে। তবে আপনার ব্লগের সফলতা খুব দ্রুত আপনার হাতে ধরা দেবে।
 
Subscribe for all Updates

Subscribe Now

কপিরাইট © 2015- প্রযুক্তি ডট কম ™, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Powered by: